নিউ ইয়র্ক

মামদানি জয়ী হলে সেটি হবে ট্রাম্পের জন্য উপহার”— কুমোর সতর্কবার্তা

সাবেক গভর্নর বললেন, নিউ ইয়র্ক সিটির ওপর ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারে ওয়াশিংটন; অ্যাডামসের সরে দাঁড়ানো বদলে দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ

শাহ্ জে. চৌধুরী

নিউ ইয়র্ক, অক্টোবর ৬, ২০২৫: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন ঘিরে এখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। জনপ্রিয় টকশো “দ্য ভিউ”-তে উপস্থিত হয়ে সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে বলেন,

“যদি জোহরান মামদানি নির্বাচনে জয়ী হন, সেটি হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক বড় উপহার।”

তিনি আরও দাবি করেন, মামদানির প্রগতিশীল ও বামঘেঁষা নীতি ওয়াশিংটন প্রশাসনকে নিউ ইয়র্ক সিটির ওপর আরও ফেডারেল হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেবে, যা স্থানীয় প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন কমিয়ে দিতে পারে।

কুমোর বক্তব্য: “আমরা প্রতিদিন লড়েছি”

কুমো তাঁর গভর্নর থাকাকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,

“আমরা প্রতিদিন লড়েছি। ট্রাম্পের জন্য মামদানি মতো প্রার্থী এক রাজনৈতিক উপহার, যার মাধ্যমে তিনি ‘চরম বামপন্থা’ নিয়ে নিজের প্রচারণা জোরদার করতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে নিউ ইয়র্কের নীতিনির্ধারণে ফেডারেল সরকারের প্রভাব বাড়বে এবং শহর প্রশাসনের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

“নিউ ইয়র্কবাসীর ভয় পাওয়া উচিত”

কুমো তাঁর বক্তব্যে সতর্ক করে বলেন,

“নিউ ইয়র্কবাসীর এখন ভয় পাওয়া উচিত, কারণ মামদানির নীতি শহরকে এক অনিশ্চিত পথে নিয়ে যেতে পারে।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণও এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। কুমোর মতে, অ্যাডামস সক্রিয়ভাবে প্রচারণা না চালানোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভারসাম্য এখন মামদানি ও তাঁর মধ্যকার সরাসরি লড়াইয়ে নেমে এসেছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
অ্যাডামস সরে দাঁড়ানোর পর এখন মূলত আলোচনায় তিনজন প্রার্থী—জোহরান মামদানি, অ্যান্ড্রু কুমো, এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া।

যদিও কুমো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক, সাম্প্রতিক জরিপে মামদানি এগিয়ে আছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, এবং তিনি ইতিমধ্যেই গভর্নর ক্যাথি হোচুলসহ প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, কুমো এখনো নিজের অতীত বিতর্ক থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি। ২০২১ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগের পর গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘটনাটি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে এখনও প্রভাবিত করছে। মামদানি ও তাঁর দল এই ইস্যুকেও প্রচারণায় ব্যবহার করছেন।

বিশ্লেষণ: রাজনীতি না বাস্তবতা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমোর এই বক্তব্যের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচনকে তিনি কেবল একটি স্থানীয় প্রতিযোগিতা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির প্রতীকী সংঘর্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন,

“কুমো চাচ্ছেন এই নির্বাচনকে এমন এক যুদ্ধ হিসেবে দেখাতে, যেখানে প্রশ্ন হচ্ছে—আমেরিকার শহরগুলোর ভবিষ্যৎ কে নির্ধারণ করবে: জনগণ, নাকি ফেডারেল ক্ষমতা?”

আগামী সপ্তাহগুলোতে এই নির্বাচন আরও উত্তপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্কবাসীর সামনে এখন মূল প্রশ্ন—
তারা কি বেছে নেবে প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথ, নাকি অভিজ্ঞ হাতের স্থিতিশীলতা?

সম্পাদকীয় মন্তব্য:
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন এখন শুধু প্রশাসনিক নেতৃত্ব নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। মামদানি ও কুমোর দ্বন্দ্বে শহরের ভবিষ্যৎ পথনির্ধারণের এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে।

সূত্র: ABC News

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension