প্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ছড়ানোর শিউরে ওঠা তথ্য দিলেন গবেষকরা

ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ আসা-যাওয়া করে। সম্ভবত তারা ইটালি ও চীন থেকে করোনাভাইরাসে গত বছরের ডিসেম্বরে সংক্রমিত হয়ে এসেছে।

এ বছর মার্চের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে আরেক নারী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে অসুস্থ হয়ে মারা যান। দুজনেই সান ফ্রান্সিসকোতে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা যান ।

সরকারিভাবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করার আগেই যে সময় করোনার উপসর্গে তারা সর্দি-কাশি, জ্বর ও গলাব্যথার লক্ষণ নিয়ে মারা যান। সে সময় মানুষে মানুষে শারীরিক দূরত্ব সৃষ্টির ব্যাপারে তখনও কোনও আলোচনা শুরু হয় নি যুক্তরাষ্ট্রে।

সান্তা ক্লারা কাউন্টির চিকিৎসক জেফ স্মিথ বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস অনেক আগেই ছড়িয়েছে। সম্ভবত সরকারিভাবে শনাক্তের আয়োজন শুরুর অনেক আগেই এটির উপস্থিতি ছিল।

তিনি গত শুক্রবার বলেছেন, সেন্টার ফর ডিজিস অ্যান্ড কন্ট্রোল প্রিভেনশন, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে- আমরা যখন থেকে এটি প্রথম শনাক্ত শুরু করেছি, তার অনেক আগে থেকেই করোনাভাইরাস এখানে ছড়িয়েছে। এমনকি এটি গত বছরের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে থাকতে পারে।

স্মিথ আরও বলেন, সময়টি ফ্লু সেশন হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের বিষয়টি ভেবে দেখা হয় নি। কারণ লক্ষণগুলো তো আসলে ফ্লুর মতো। কারও যদি মাঝারি ধরনের করোনার লক্ষণ প্রকাশ পায়, সেটা বোঝা অনেক কষ্টের। এমনকি এ অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসকের কাছে যায় না। আর ডাক্তারও এ ধরনের বিষয় তেমন গুরুত্বের সাথে না নিয়ে হয়ত স্বাভাবিক কোনও ওষুধ লিখে দিয়েছে।

এদিকে ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ আসা-যাওয়া করে। সম্ভবত তারা ইটালি ও চীন থেকে করোনাভাইরাসে গত বছরের ডিসেম্বরে সংক্রমিত হয়ে এসেছে। আর গত ৪ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রশাসন করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেওয়ার অনেক আগেই তাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়েছে। আর ওই সময়ের আগেই উহান থেকে ইটালি হয়ে বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যে বহু মানুষের মধ্যে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেলেও তা পরীক্ষা করা হয় নি। এমনকি বিষয়টি কেউ ভেবেও দেখে নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিকভাবে করোনাভাইরাস ওই সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ২৬৬ জন। এখন পর্যন্ত মারান গেছে ২১ হাজার ৩৯০ জন।◉

লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension