যুক্তরাষ্ট্ররাজনীতি

ইলহান ওমরকে ঘিরে তদন্তে ডিএনএ বিতর্ক!

ফেডারেল তদন্তে নতুন দাবি, অভিবাসন নথি খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ, অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত নয়; রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান

হোসনেআরা চৌধুরী

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে ঘিরে চলমান ফেডারেল তদন্তে ডিএনএ-সংক্রান্ত প্রমাণের দাবি সামনে এসেছে। অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ এবং তাঁর অতীতের পারিবারিক ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কথিত ডিএনএ প্রমাণের প্রকৃতি, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা অভিযোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এসব দাবিকে এখনই অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

নিউজম্যাক্সের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ওমরের অতীতের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বিয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগটি হলো, ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমির সঙ্গে তাঁর বিয়ে অভিবাসন-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

বাসায় তল্লাশি, তদন্তে নতুন মাত্রা

রয়টার্সের ১৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ফেডারেল কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালান। তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি মোবাইল ফোন জব্দ এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমন পাঠানোর বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে তল্লাশি বা সমন জারি হওয়া নিজে থেকে অপরাধ প্রমাণ করে না। তদন্তকারীরা ঠিক কী ধরনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছেন, পরীক্ষার ফল কী এবং তা কোনো অভিযোগকে সমর্থন করে কি না—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র

মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ওমর তদন্তকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে সমালোচনা করেছেন; অন্যদিকে, প্রশাসনের অবস্থান অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

ওমর ১৯৯৫ সালে শিশু অবস্থায় সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বর্তমান তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে

ডিএনএ-সংক্রান্ত দাবি কতটা নির্ভরযোগ্য, তদন্তকারীরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনবেন কি না এবং কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তদন্ত চলমান থাকা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। আদালতে প্রমাণ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

সম্পাদকের নোট: প্রকাশের আগে ডিএনএ প্রমাণসংক্রান্ত দাবির স্বাধীন যাচাই এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নিশ্চিত করা জরুরি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension