
নিউ ইয়র্ক
নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচনের প্রারম্ভিক ভোটে উৎসবের আমেজ — ভোটারদের আগ্রহে নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত
নিউইয়র্ক | হোসনেআরা চৌধুরী | অক্টোবর ২৫, ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটিতে আসন্ন ২০২৫ মেয়র নির্বাচনের প্রারম্ভিক ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। প্রথম দিনেই পাঁচটি বরো জুড়ে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হিসাবে, একদিনেই প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি নাগরিক ব্যালট দিয়েছেন — যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
ভোটের শুরুতেই প্রাণচাঞ্চল্য
ম্যানহাটানে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৪ হাজার ভোটার অংশ নেন। ব্রুকলিনে ভোটের হার কিছুটা বেশি হলেও কোয়িনসে প্রায় ১৯ হাজার, ব্রঙ্কসে সাড়ে সাত হাজার এবং স্টেটেন আইল্যান্ডে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।
ভোট দিতে আসা অনেকেই জানিয়েছেন—এই নির্বাচন তাঁদের কাছে শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং শহরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রশ্ন।
এক ভোটারের ভাষায়, “নিউইয়র্কে থাকা বা চলে যাওয়া—এই ভোটই হয়তো আমাদের সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে।”
ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ
ভোটারদের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—বাসস্থানের সাশ্রয়ীতা, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষা, অভিবাসন, অপরাধ ও পুলিশ সংস্কার।
এছাড়াও ব্যালটে রয়েছে ছয়টি প্রস্তাব, যার মধ্যে অন্যতম হলো—‘স্থানীয় নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বিত করা’ এবং ‘সাশ্রয়ী হাউজিং নীতি’।
প্রার্থীদের তৎপরতা
প্রারম্ভিক ভোটের প্রথম দিনেই মাঠে নেমেছেন তিন প্রধান প্রার্থী।
•অ্যান্ড্রু কুোমো, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, নিজেকে “অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প” হিসেবে তুলে ধরছেন এবং ধর্মীয় সংগঠন ও প্রবাসী সমর্থকদের ওপর জোর দিচ্ছেন।
•কার্টিস স্লিওয়া, রিপাবলিকান প্রার্থী, ভোট দেওয়ার পর বলেন—“এই শহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন একমাত্র অগ্রাধিকার।”
•জোহরান মামদানি, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী, তাঁর প্রচারণাকে ভবিষ্যতনির্ভর আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন—“আমরা অতীত নয়, নতুন নিউইয়র্ক গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছি।”
ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন
প্রারম্ভিক ভোট চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত, এবং চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ নভেম্বর।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এই নির্বাচনে ভোটারদের এমন অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিউইয়র্কবাসী এবার পরিবর্তনের আহ্বানে ঐক্যবদ্ধ।



