নিউ ইয়র্কে জোহরান মামদানি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
৩৩ বছর বয়সী রাজনীতিকের চোখ এখন সিটি হলের দিকে — মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী

শাহ্ জে. চৌধুরী
নিউ ইয়র্ক | অক্টোবর ১৬, ২০২৫: নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন এক নাম উচ্চারিত হচ্ছে সর্বত্র — জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই তিনি শহরের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ঝড় তুলেছেন। কুইন্সের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য পরিষদে (New York State Assembly) দায়িত্ব পালনকারী মামদানি এখন মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া মামদানি শৈশবেই অভিবাসী হিসেবে নিউ ইয়র্কে আসেন। তাঁর পিতা বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মাহমুদ মামদানি, আর মাতা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার। এমন বুদ্ধিজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা জোহরান ছোটবেলা থেকেই সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রগতির ধারায় অনুপ্রাণিত।
রাজনীতির মঞ্চে আগমন
কলেজ জীবন থেকেই তিনি সামাজিক কর্মসূচিতে যুক্ত হন। একসময় “Young Cardamom” ছদ্মনামে র্যাপ সঙ্গীতের জগতে পা রাখলেও দ্রুতই বুঝতে পারেন, বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে রাজনীতির ময়দানেই নামতে হবে।
২০২০ সালে তিনি কুইন্সের ৩৬ নম্বর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে নিউ ইয়র্ক রাজ্য পরিষদে প্রবেশ করেন। এর পর থেকেই তাঁর কর্মপদ্ধতি, বক্তব্য ও জনগণের সঙ্গে মিশে থাকার ক্ষমতা তাঁকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
মেয়র নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা
জোহরান মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো সাহসী ও প্রগতিশীল। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন—
• শহরে ভাড়া বন্ধ (rent freeze) রাখবেন,
• নগর বাস পরিষেবা বিনামূল্যে করবেন,
• সিটি পরিচালিত গ্রোসারি স্টোর চালু করবেন,
• ২০ লক্ষ সামাজিক আবাসন তৈরি করবেন,
• শিশুদের জন্য ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার,
• আর্থিক উৎস হিসেবে ধনী শ্রেণি ও বড় কর্পোরেশনের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করবেন।
এই কর্মসূচিগুলো তাঁকে শহরের তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগণের মাঝে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করেছে।
বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে
তবে তাঁর উত্থান একেবারেই বিতর্কহীন নয়। ২০২০ সালে NYPD (নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ) সম্পর্কে তাঁর “বর্ণবৈষম্যমূলক” মন্তব্য পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে “দুঃখ প্রকাশ” করলেও বিরোধীরা তাঁকে ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদী ক্ষমাপ্রার্থী’ বলে কটাক্ষ করেছে।
ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ প্রসঙ্গে তাঁর অবস্থানও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলি নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি আমেরিকান রাজনীতির প্রথাগত প্রো-ইসরায়েল লবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া তাঁর এই অবস্থান ও অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রচারযুদ্ধে নেমেছেন।
তরুণ প্রজন্মের আশা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ
তবে এক বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই — জোহরান মামদানি এখন শহরের তরুণ প্রজন্মের কাছে “পরিবর্তনের প্রতীক”। তাঁর ভাষণ, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং বাস্তব সমস্যার প্রতি আন্তরিক দৃষ্টি তাঁকে আজকের নিউ ইয়র্ক রাজনীতিতে এক বিশেষ স্থানে দাঁড় করিয়েছে।
তাঁর সমর্থকদের ভাষায় —
“তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং ভবিষ্যৎ নিউ ইয়র্কের নতুন দিকনির্দেশ।”
উপসংহার
নিউ ইয়র্ক শহরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটতে চলেছে। জোহরান মামদানি সেই অধ্যায়ের মুখ্য চরিত্র হবেন কিনা, তা নির্ধারণ করবে আগামী নভেম্বরের ভোট।
তবে এতটুকু নিশ্চিত — তিনি ইতোমধ্যেই একটি প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
সূত্র: New York Post, The Guardian, Washington Post, AP News
প্রস্তুতি: শাহ্ জে. চৌধুরী, নিউ ইয়র্ক



