
বাংলার মুসলিমদের নিয়ে “ছুঁচো গেলা” অবস্থা বিজেপির
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: ভোট বড় বালাই, তাই একপ্রকার নিজেদের ছুঁচো নিজেদেরই গিলতে হচ্ছে রাজ্য বিজেপিকে। সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে NRC-র মাধ্যমে বাংলার মুসলিমদের একটি অংশকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠাতে চেয়েছে রাজ্য বিজেপি।
এবার বাংলার বড় অংশের “মুসলিম ভোট”-এর ভাগ পেতে চেয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে টানতে উদ্যোগ নিচ্ছে তারা। মাহেশ্বরী সদনে বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার দুদিনের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মন জয়ের চেষ্টা শুরু করল রাজ্য বিজেপি।
২০১৪-র মতো মোদী হাওয়াতে পাল তুলে ২০১৯ লোকসভা ভোটের বৈতরণী যে পার হওয়া যাবে না এটা মোদী-শাহরা ভালোই বোঝেন। আর বোঝেন বলেই এবার বাংলার ৪২ সিটে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় থাবাটি বসাতে চাইছে বিজেপি।
বাংলায় এখনও হিন্দুত্বের নামে ভোট একত্রিত নয়। পাশাপাশি বাংলার জনসংখ্যার এক বড় অংশ মুসলিম। তাই এবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব মিটিয়ে তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোতে মরিয়া বাংলা মোদীবিগ্রেড।
মাহেশ্বরী সদনে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সংখ্যালঘু মোর্চার প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছেন অরবিন্দ মেনন, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন মাহেশ্বরী সদনে বলেন, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংখ্যালঘুদের মাথায় ইঞ্জেকশন দিতে হবে।”
অর্থাৎ বিজেপির আদর্শ এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিটি সংখ্যালঘুর মাথায় গেঁথে দিতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যে সংখ্যালঘুরা কতটা ভালো আছে সেই খতিয়ানও বাংলার মুসলিমদের কাছে তুলে ধরার কথা বলেন মেনন।
“হিন্দু রাষ্ট্র” এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মুসলিম তোষণ” নিয়ে জোর সওয়াল করে থাকেন দিলীপ ঘোষ। মাহেশ্বরী সদনে তার গলাতেও সংখ্যালঘু উন্নয়নের কথা শোনা গেল। মুসলিমদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু আদপে তাদের কোন উন্নয়নই হয়নি বলে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেন।



