
‘বিশ্বাস ও কাজে কুফর থেকে শিরক’
শিরক হচ্ছে বড় জুলুম, কুফর নিজেকে ধোঁকা দেয়া। কুফর বা অবিশ্বাসের পথ ধরে শিরক প্রবেশ করে। আল্লাহ মুসা আঃ-এর অনুসারীদের শিরক ‘বাছুর গ্রহণকে’ চিহ্নিত করে দেন, নবীর মাধ্যমে এবং তা থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগ দেন।
আমাদের মুসলিমদের শিরক থেকে বাঁচার জন্য শিরককে চিহ্নিত করে, যা থেকে তওবার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিশ্বাস ও কাজে কিভাবে কুফর প্রবেশ করে, তা জেনে নিতে হবে সূরা বাকারা থেকে।
বিশ্বাসের সাথে কাজ:
রবের পক্ষ থেকে সঠিক পথ প্রাপ্ত যাতা তারাই মুত্তাকীরা। তারা ৭টি বিশ্বাস ও ৪টি কর্মে দৃঢ় থাকবে।
৭টি বিশ্বাস যা করতে হবে:
১.গায়েবে বিশ্বাস, ২.আল্লাহ, ৩.ফিরিশতা, ৪.তাগদির, ৫.রসূল, ৬.নাযিলকৃত কিতাব, ৭.আখেরাত।
৪টি কাজ যা করতে হবে:
১.সালাত প্রতিষ্ঠা, ২.আত্মোয়নে ও সমাজ গঠনের কাজ, ৩.রিজিক থেকে ব্যয়, ৪.আল্লাহর সীমারেখার মধ্যে থেকে আয় করে তা হতে ব্যয় করা।
– অর্থাৎ বিশ্বাস নিয়ে ইবাদত কেন্দ্রিক ও সমাজের আর্থিক উন্নয়নমূলক কাজ করা মুত্তাকীর দায়িত্ব।
বিশ্বাসের ঘাটতি: বিশ্বাস ও কাজের একটাতে একটুও ঘাটতি হলে অবিশ্বাস বা কুফরী জন্ম নেয়।
– ঈমানকে কুফর দিয়ে বদলকারী “সত্যপথ” হারায় বা পথভ্রষ্ট হয়। তাতে তাগূত হয় বন্ধু, অভিভাবক ও পথপ্রদর্শক।
– ফলে সত্য গ্রহণে অন্তরে, সত্য শোনায় কানে, সত্য দেখায় চোখে মোহর ও আবরণ পড়ে। (এই পরিণতি নিজেই টেনে আনে তার নিজস্ব কাজ দিয়ে।)
বিশ্বাসের ঘাটতি নিজেকে ধোঁকা: ঈমান এনেও মু’মিন নয় যারা আল্লাহ ও ঈমানদারদের ধোঁকা দেয় বা দিতে চায়, তারা বিশ্বাসে অন্তরে ব্যধিগ্রস্ত বা হার্টের রোগী।
– এতে আল্লাহ তার রোগ বাড়িয়ে দেন, পরিণতিতে হয় ফাসাদকারী বা বিপর্যয়কারী
– সত্য গ্রহণে অনীহা: নিজের অন্তর সুরক্ষিত ‘গুলফুন’ বা নিরাপদ বিশ্বাস মনে করে, কিতাবের সত্যদ্বীন গ্রহণ না করা কুফরীর প্রকাশ।
তাদের কয়েকটি স্বভাব:
– তারা নিদর্শন অস্বীকার করে। ৩৯
– রসূল ও কিতাবের সাথে কুফরী করে। ৮৯
– শিরককারীরা বেঁচে থাকার প্রতি বেশী লোভী। ৯৬
– তারা চায় না রবের পক্ষ থেকে কোন কল্যাণ আসুক বিশ্বাসীদের উপর। ১০৫
– দুনিয়ার জীবন তাদের বেশী আকর্ষন করে, বিশ্বাসীদের নিয়ে তারা হাসি তামাশা করে। ২১২
ঈমান সুরক্ষার চেষ্টায়:
– ঈমানীয়াতের প্রত্যেকটিতে সমান গুরুত্ব দেয়া, বিশ্বাস ও কাজের সমন্বয় থাকা।
– প্রতিটি বিশ্বাসের বিষয় কাজ দিয়ে যাচাই করা।
– কুরআনকে মানদন্ড হিসাবে গ্রহণ করা। সতর্ক থাকা, ‘নিজে মনে করা’ কোন মানদন্ড নয়।
কাজে কুফর প্রবেশ:
ইবাদতে শিরক: বনী ইসরাঈলীদের কাছে অঙ্গীকার নেন ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতে গ্রহণ কোরো না।’ কিন্তু মুসা আঃ এর অনুপস্থিতিতে বাছুরকে উপাস্য গ্রহণ করে, যালেম বা অত্যাচারী হয়। আল্লাহর অধিকারে শিরক করে।
আদেশ অমান্য: ‘কিতাব দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।’ নির্দেশ পালনে অবহেলায় অন্তরে বাছুর প্রীতি জন্ম নেয়, কাজে কুফর ও শিরক প্রকাশ পায়। অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমতায় শিরক করা।
মিথ্যা ধারণা পোষন: আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করা শিরক। যারা বলেছিল সন্তান গ্রহণ করেছে, অর্থাৎ তাঁর সত্ত্বার সাথে শিরক করা।
– ভালবাসায় শিরক: আল্লাহর মত করে অন্য কাউকে শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় সমকক্ষ করা শিরক।
যারা শিরক করে তাদের পরিণতি
– কাফেরদের উপর আল্লাহর অভিশাপ।
– তারা জাহান্নামের স্থায়ী অধিবাসী।
– যারা কুফরী করে এবং সে অবস্থায় মারা যায়, তাদের উপর অভিশাপ আল্লাহর, ফেরেশতাকূলের এবং সমস্ত মানুষের।
নিজেকে শিরক মুক্ত করার চেষ্টায়
– একমাত্র রবের ইবাদত করা
– বিধান পালনে কম-বেশী করে সংমিশ্রণ না করা।
– ‘সামিইনা ওয়াত্বনা’ বলে বিধানের স্বীকৃতি দেয়া এবং পালনে অবহেলা না করা।
– আল্লাহর সমকক্ষ স্থির না করা।
– ক্ষমতায়, চিন্তায়, বিশ্বাসে, ইবাদতে, ধারনায়, বিধান পালনে, সমগ্র বিষয়ে “ওয়া ইলাহুকুম ইলাহূওয়াহিদ” আল্লাহ এক ও একক তাতে স্থির থাকা।
– নিজের জ্ঞান বা জানাকে নয়, কুরআনকে মানদন্ড গ্রহণ করে সুন্নাহ দিয়ে যাচাই করা।
আরও চেষ্টা করা যেতে পারে
– হেদায়েত প্রাপ্তরা ঈমান টিকিয়ে রাখার জন্য কুরআন বা সত্যদ্বীনকে শক্তভাবে ধারন করা।
– পূর্ববতীরা বা বনী ইসরাঈলীরা অসংখ্য নেয়ামত পেয়েও অকতৃজ্ঞ ছিল। চাক্ষুস নিদর্শন পেয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলার নিদর্শন চেয়ে ছিল আসলে ঈমানে দৃঢ় থাকেনি শিক্ষা গ্রহণ করেনি। আমরা যেন তাদের মত আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ না হই। নিদর্শন থেকে ঈমান দৃঢ় করি এবং শিক্ষা গ্রহণ করি।
– ওরা নেতার অবর্তমানে বাছুরকে গ্রহণ করে আল্লাহর সাথে শরীক করে এবং নেতার অবাধ্য হয়। আমরা যেন রসুল (সঃ) অবর্তমানে আল্লাহর সাথে কোন কিছুতেই শরীক না করি।
– আমরা যেন কুরআনের জ্ঞান জেনে তাতে সীমাবদ্ধ না থেকে, প্রত্যেকের জীবনে বিশ্বাসে ও কাজে বাস্তবায়ন করি।
– ইহুদী খৃষ্টানদের মত শিরকে লিপ্ত না হই।
– কুরআন দিয়ে শিরক চিহ্নিত করে, তা দূর করে, তওবা ও প্রার্থনা করি ‘শিরকমুক্ত ইবাদতের’ জন্য।
আমীন
রওনক কবীর



