
মাউস আবিষ্কারক উইলিয়াম ইংলিশ
কম্পিউটার ব্যবহারকারী প্রায় সবারই মাউসের প্রয়োজন হয়। বলা যায় এটি ছাড়া যেন কম্পিউটার সিস্টেমই অচল! এ অনুষঙ্গটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ডেস্কটপ কম্পিউটারে। এক ক্লিক করেই যেখানে মন চায় পৌঁছে যাওয়া যায়। দুই বোতামের সঙ্গে একটি স্ক্রল হুইল যাকে তৃতীয় বোতামও বলা যায়-যার কাজ মূলত কম্পিউটার স্ক্রিনে ঘুরে বেড়ানো আর পছন্দের জায়গায় ক্লিক করা। যন্ত্রেটির আবিষ্কারক উইলিয়াম ইংলিশ।
দু’দিন আগে অর্থাৎ গত ২৬ জুলাই ছিল কম্পিউটার মাউসের সহ-উদ্ভাবক উইলিয়াম ইংলিশের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ায় সান রাফায়েলে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
জন্ম
এ প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে ১৯২৯ সালে জন্ম নিয়েছিলেন। মার্কিন নেভিতে যোগ দেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক প্রকৌশল নিয়ে পড়ালেখা করেন তিনি। তবে তিনি বেশ কয়েক বছর নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
কর্মজীবন
১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে নৌবাহিনীতে কর্মজীবন ছেড়ে যাওয়ার পর ইংলিশ স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে একটি গবেষণা ল্যাবে যোগদান করেছিলেন। (বর্তমানে এসআরআই আন্তর্জাতিক হিসাবে পরিচিত)। সেখানে সহ-প্রকৌশলী ডগলাস এঙ্গেলবার্টের সঙ্গে তার দেখা হয়। তারা একসঙ্গে নতুন ধরনের কম্পিউটার তৈরির আশা করেছিলেন। এরপরই বিশ্বের প্রথম মাউস তৈরি হয়।
প্রথম মাউস
প্রথম মাউস ১৯৬৩ সালে তৈরির কৃতিত্ব উইলিয়াম ইংলিশের। তিনি শুধু মাউসের সহ-উদ্ভাবক নন, প্রথম ব্যবহারকারীও তিনি। তবে মাউসের প্রথম ধারণা ছিল ডগলাস অ্যাঙ্গেলবার্টের। দু’জনেই ওই সময়টিতে প্রাথমিক কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছিলেন। স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে অ্যাঙ্গেলবার্টের গবেষণা প্রকল্পের অধীনে প্রথম মাউসটি তৈরি করেন ইংলিশ। ধারণা অ্যাঙ্গেলবার্টের থাকলেও পুরো কারিগরি কাজটিই নিজে করেছিলেন ইংলিশ।
যেমন ছিল মাউস
একটি বক্সের মধ্যে সেই মাউসটি তৈরি হয়েছিল। তবে বক্সে বিশেষ চাকা ছিল, যা দিয়ে ওই মাউস ব্যবহৃত হতো। আকারেও সেই মাউসটি ছিল বর্তমান মাউসগুলোর তুলনায় বড়। ১৯৭১ সালে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট ছেড়ে জেরক্সের পার্ক গবেষণা কেন্দ্রে যোগ দেন ইংলিশ। সেখানে প্রথমবারের মতো মাউসে চাকার পরিবর্তে বল জুড়ে দেন ইংলিশ। এ নকশাতেই বহু বছর চলেছে মাউস।
মাউস ছাড়াও তিনি ক্যালিফোর্নিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ডগলাস ওয়ার্ড প্রসেসিং, ভিডিও টেলিসম্মেলন নিয়েও কাজ করেছিলেন। ইংলিশ অ্যাঙ্গেলবার্টের ধারণাগুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।



