
মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভে ২০০ জনেরও বেশি নাগরিক হত্যা
মায়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়েছে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ করার সময় দূর থেকে মাথায় গুলি করে। বাকিদের প্রাণ গেছে অভ্যুত্থানবিরোধী সন্দেহে সেনাদের বেপরোয়া গুলিতে। এরপরও হাল ছাড়েন নি মায়ানমারের বিক্ষোভকারীরা।
এ সপ্তাহে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ আর বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক আইন জারির পরেও বিক্ষোভ হয়েছে ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয় শহরে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, মায়ানমারের জান্তা সরকারকে বাগে আনতে পারে এমন কোনো শক্তি রয়েছে কি না, যেখানে গণবিক্ষোভেও কিছু হচ্ছে না।
সেনাশাসনের প্রতিবাদে ধর্মঘটে গেছেন বহু সরকারি কর্মকর্তা। এগুলোর মাধ্যমে জান্তা সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে, মায়ানমারের সেনাশাসকরা অর্থসংকটে ভুগছেন। অভ্যুত্থানের কয়েকদিন পরেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন মায়ানমার সেনাদের সেই প্রচেষ্টা আটকে দেয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশটির জান্তা সরকার ২০০ বিলিয়ন কিয়াট (মায়ানমারের মুদ্রা) পাঁচ বছর মেয়াদি বন্ড বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা পায় মাত্র ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন কিয়াট, তা-ও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক চড়া সুদে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, মায়ানমারের বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আটকে যাওয়া এক বিলিয়ন ডলারও রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে খুব বেশি হলে পাঁচ মাসের আমদানি-ব্যয় মেটানো যাবে। গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর মধ্যে মায়ানমার জ্বালানি ও রান্নায় ব্যবহৃত সব তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এসব পণ্যের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে, অন্যদিকে কিয়াটের মান কমছে। সেখানে বিদেশি বিনিয়োগেও পড়েছে বিক্ষোভ-সহিংসতার প্রভাব। সম্প্রতি মায়ানমারে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অবশ্যই কিছু বিনিয়োগকারী পিছু হটবেন বলে ধরা যায়।
মায়ানমারের জান্তা সরকারের জন্য বৈদেশিক অর্থই একমাত্র দুর্বলতা নয়।❐



