প্রধান খবরবাংলাদেশ

রোমে ফের আলোচনায় বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে শুক্রবার রোমে ফের আলোচনায় বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।

তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানিয়েছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দুই পক্ষের জন্যই এই আলোচনার গুরুত্ব অনেক। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চান, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা উস্কে দিতে পারে। অন্যদিকে ইরান চাইছে তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার পঞ্চম দফা আলোচনা হতে যাচ্ছে। যদিও তেহরান বলছে, আলোচনা পরোক্ষভাবে হচ্ছে; কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ ১১ মে ওমানে হওয়া আলোচনাগুলো সরাসরি ও পরোক্ষ, উভয়ভাবেই হয়েছে।

দুই দেশই কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান চাইলেও আলোচনা বিফলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। কারণ, পরমাণবিক কর্মসূচীর বিষয়ে সমঝোতা নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টতই একে অপরের বিপরীতমুখী।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, “আমরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই, যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।” তবে ‘এটা সহজ হবে না’ বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে “অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, “এই আলোচনায় ফল আসবে না।”

চলমান জটিলতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাধা হচ্ছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাতে অস্বীকৃতি এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনা না করার মনোভাব।

তেহরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে তারা রাজি, কিন্তু ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনও চুক্তি থেকে তারা আর সরে আসবে না।

২০১৫ সালে বিশ্বের প্রভাবশালী ছয় জাতি সঙ্গে তেহরানের হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প বেরিয়ে আসার পর ২০১৮ সালে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এরপর থেকেই তেহরান ২০১৫ চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ জোরদার করতে শুরু করে।

আলোচনায় ব্যর্থতার মূল্য অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দুই পক্ষই। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। এদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হতে দেবে না।

বৃহস্পতিবার আব্বাস আরাকচি সতর্ক করে বলেন, “ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা হলে এর দায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে।”

রয়টার্স জানিয়েছে, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত আসার পর এই হুঁশিয়ারি আসে।

অন্যদিকে ইরানের তিনটি সূত্র রয়টার্সকে মঙ্গলবার জানিয়েছে, পরমাণু আলোচনায় অগ্রগতি না হলে কী হবে সে বিষয়ে তেহরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের কাছে কোনও সুস্পষ্ট ‘পরিকল্পনা’ নেই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension