
স্টেফানিকের চাপে হোচুল—সিয়েনা জরিপে ব্যবধান নেমে এলো ১৪ পয়েন্টে
জুনে ছিল ২৩ পয়েন্ট, স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর লিড

হোসনেআরা চৌধুরী
আগস্ট ১২,২০২৫ | নিউ ইয়র্ক: নিউ ইয়র্ক রাজনীতিতে গ্রীষ্মের শেষভাগে এসে জমে উঠছে নির্বাচন-উত্তাপ। গভর্নর ক্যাথি হোচুলের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হয়েছে তাকে। সিয়েনা কলেজের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিকের সঙ্গে ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র ১৪ পয়েন্টে—যেখানে জুন মাসে এই ব্যবধান ছিল প্রায় ২৩ পয়েন্ট।
জরিপে বলা হয়েছে, যদি আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, হোচুল ৪৫% ভোট পেতেন, স্টেফানিক পেতেন ৩১% ভোট। বাকি ১৬% ভোটার অনিশ্চিত, আর ৮% অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পক্ষে।
জনপ্রিয়তা ও জনমত
গভর্নর হোচুলের ফেভারিবিলিটি রেটিং বর্তমানে ৪২% ইতিবাচক বনাম ৪৪% নেতিবাচক। একই সঙ্গে ৪৫% নিউ ইয়র্কবাসী মনে করেন রাজ্য ভুল পথে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করছে যে ভোটারদের আস্থা এখনও অটুট নয় এবং আগামী দেড় বছরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলাতে পারে।
স্টেফানিকের উত্থান ও চ্যালেঞ্জ
এলিস স্টেফানিক বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে থাকা রিপাবলিকান নেতা। তবুও, রাজ্যজুড়ে ৪৬% ভোটার তার সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানেন না। তবে স্বাধীন ভোটারদের মধ্যে তিনি এগিয়ে (৩৫% বনাম ৩২%) এবং নাসাউ, সাফোক, ওয়েস্টচেস্টার, রকল্যান্ড ও পাটনাম কাউন্টি মিলিয়ে উপনগর এলাকায়ও লিডে আছেন (৪১% বনাম ৩৯%)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংখ্যাগুলো প্রমাণ করছে যে স্টেফানিক সঠিক কৌশলে চলতে পারলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিউ ইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হলেও সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীরা অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছেন—বিশেষ করে লি জেলডিনের ২০২২ সালের গভর্নর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য সতর্ক সংকেত ছিল। এবারও উপনগর ও আপস্টেট ভোটাররা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অর্থনীতি ও নীতি প্রশ্নে চাপ
রাজ্যের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, অপরাধপ্রবণতা ও আবাসন সংকট—এসব ইস্যুতে হোচুল প্রশাসন চাপের মুখে। অনেক ভোটার মনে করছেন এসব ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। অন্যদিকে, স্টেফানিক এসব ইস্যুতে আরও আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়ে হোচুলের দুর্বল দিকগুলো সামনে আনতে চাইবেন।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
২০২৬ সালের নির্বাচন এখনও অনেক দূরে, কিন্তু জরিপের এই ফলাফল উভয় পক্ষের জন্যই বড় বার্তা দিচ্ছে। হোচুলের জন্য এটি সতর্কবার্তা যে ভোটারদের আস্থা পুনর্নির্মাণ করতে হবে, আর স্টেফানিকের জন্য এটি সুযোগ—নিজেকে রাজ্যজুড়ে পরিচিত করে তোলা এবং স্বাধীন ভোটারদের সমর্থন আরও সুসংহত করা।



