
হিন্দু জাতীয়তাবাদী অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে উত্তেজনা, ইহুদি কংগ্রেস প্রার্থী হেনস্তার শিকার
হোসনেআরা চৌধুরী :
হিন্দু জাতীয়তাবাদী একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের সময় ইহুদি ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ‘জায়নিস্ট’ পরিচয় নিয়ে কটূক্তি ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে জড়ো হন। ওই বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়েছিলেন ল্যান্ডারও।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ল্যান্ডারকে ‘জায়নিস্ট’ বলে কটূক্তি করেন এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তাকে ‘অর্থের বিনিময়ে জায়নিস্ট’ বলেও আক্রমণ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের অন্য একটি অংশ ল্যান্ডারের পক্ষে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
ল্যান্ডার বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি তাদের প্রতিবাদে যোগ দিতেই সেখানে এসেছেন। তিনি নিউইয়র্কের ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী এবং আরএসএসের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করতেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে জানান।
ল্যান্ডার ইসরায়েল সরকারের নীতির একজন কঠোর সমালোচক। গাজা যুদ্ধ নিয়ে তিনি ইসরায়েলি সরকারের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন এবং যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে একজন উদারপন্থী জায়নিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন এবং ইসরায়েলের একটি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্বের সমর্থন করেন।
ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত আরএসএসের অনুষ্ঠানটিরও তীব্র সমালোচনা করেন ল্যান্ডার। তার ভাষায়, এটি ছিল একটি ‘ফ্যাসিবাদী ও ঘৃণামূলক সমাবেশ’। তিনি ১৯৩৯ সালে একই স্থানে অনুষ্ঠিত কুখ্যাত নাৎসি সমাবেশের সঙ্গেও এর তুলনা করেন।
অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বক্তব্য দেন। আরএসএসকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংগঠনটির বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণুতার অভিযোগ রয়েছে; তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের একটি সাংস্কৃতিক ও জাতীয় সংগঠন হিসেবে দাবি করে।
ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনাটি নিউইয়র্কে ইসরায়েল, জায়নবাদ, ফিলিস্তিন এবং ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে ইসরায়েল সরকারের সমালোচক একজন ইহুদি রাজনীতিক নিজেই যখন তার জায়নিস্ট পরিচয়ের কারণে বিক্ষোভে হেনস্তার শিকার হন, তখন রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সীমা এবং ইহুদিবিদ্বেষের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি নিউইয়র্কের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গনের ভেতরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্যও স্পষ্ট করে তুলেছে।



