
২০ ডিসেম্বর ১৯৭১, বাংলাদেশ
জাহান আরা দোলন: আজ ২০ ডিসেম্বর। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। রাতে এক বেতার ভাষণে ভুট্টো দম্ভ নিয়ে বলেন, আমরা পূর্ব পাকিস্তান ফিরে পেতে লড়াই করব।
প্রাক্তন প্রেসিডন্ট ইয়াহিয়া খান, তার চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খান এবং নিরাপত্তা সচিব মেজর জেনারেল গোলাম উমর খানসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর দেওয়া হয়।

কোলকাতা থেকে কুষ্টিয়া এবং যশোর সফর শেষে মুজিব নগরে সাংবাদিকদের কাছে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী বলেন, দেশ মুক্ত করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় নি, দেশের জনগণের হাতে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছে দিতে হবে। তিনি জানান, শীঘ্রই দেশে বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হবে ও তাতে স্থিতিশীলতা আসবে। সফর শেষে তিনি কোলকাতা ফিরে যান।
আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি জেনারেল এ.এ.কে. নিয়াজিকে এক বিশেষ বিমানযোগে ঢাকা থেকে কোলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে ছিলেন আরেক বন্দী প্রাক্তন গভর্নরের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি।
ভারতের ইস্টার্ন কম্যান্ডের মুখপাত্র জানান, ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আটক পাকিস্তানি সৈন্যর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫,৬৭০। চট্টগ্রাম গ্যারিসনে আটক ৮০০০ সৈনিক এর সঙ্গে যোগ করতে হবে। এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানি আমলা-কর্মচারী, পুলিশ ইত্যাদির সংখ্যা ছিল ২০,০০০। এদের এক মাসের মধ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়।
আজকের দিনে বাংলাদেশের পক্ষে যেসব কূটনীতিক আনুগত্য স্বীকার করেন তাদের মধ্যে ছিলেন লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসের ইকনোমিক মিনিস্টার এহসানুল কবির, প্যারিসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলার মুসলেহউদ্দিন আহমদ এবং ব্রাসেলসে দ্বিতীয় সচিব খায়রুল আনাম।❐



