বইমেলাবাংলাদেশ

আজ শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

অমর একুশে বইমেলার পর্দা নামছে আজ শনিবার (২ মার্চ)। বইমেলা ২০২৪-এর শেষ বিকিকিনি হবে আজ রাতে। বেচাবিক্রি শেষে রাত ৯টায় পর্দা নামবে বইপ্রেমী ও লেখক-প্রকাশকদের প্রাণের এই মেলার। এর মাধ্যমে শেষ হতে যাচ্ছে ৩১ দিনব্যাপী দীর্ঘ এই বইমেলা। অধিবর্ষ হওয়ায় এ বছর ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিন। এদিকে আশানুরূপ বেচাবিক্রি না হওয়ায় প্রকাশকরা অনুরোধ জানায়।

দুই দিন সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি থেকে চিঠি দেয়া হয়েছিল মেলা কমিটিকে। পরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তারা মেলা বাড়ানোর আবেদন জানায়। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো দুই দিন বাড়ানোয় এ বছর বইমেলা হয় ৩১ দিনে।

গতবারের মতো এবারো ‘পড় বই গড় দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পহেলা ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হয়। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এই দুটি অংশে চলে পুরো মেলার কার্যক্রম। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে এবার বসেছে ৬৩৫টি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান।

মেলায় পুরো মাসজুড়ে পাঠকের তুলনায় দর্শনার্থীর আগমন বেশি হলেও মেলার শেষ সময়ে এসে আসল পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে। মানুষের আগমন বাড়ায় শেষ সময়ে এসেও ভালো বেচাবিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন লেখক প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবার হওয়ায় মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায়। এদিন শিশুদের জন্য ছিল না কোনো শিশুপ্রহর। মেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশ পথগুলোতে দেখা যায় মানুষের লম্বা সারি। বিকেল হলে এই সারি আরো দীর্ঘতর হয়। পুরো বিকাল হয়ে যায় মেলার মূল আকর্ষণ। এসময় বিক্রয় কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পাঠকদের চাহিদামাফিক বই সরবরাহে।

তবে গতকাল মেলায় দর্শনার্থীর চেয়ে ক্রেতা বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন সংহতি প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী সানজিদা ইসলাম ইলমা। তিনি বলেন, ছুটির দিনে মেলায় সাধারণত মানুষের আগমন বেশি হয়। আজকেও এর ব্যতিক্রম না। মেলার অতিরিক্ত এই দিনটাতে পাঠকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ছিল। বেচাবিক্রিও ভালো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভ্র প্রকাশকের প্রকাশক কবি সমা খান বলেন, বইমেলায় আজকে অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে। মেলার শেষ দিকে এসে মানুষের বই কেনার প্রবণতা বাড়ছে। আর আজকে ছুটির দিন হওয়ায় আজকে অনেক মানুষের আগমন হয়েছে। মেলার শেষে বিক্রি বেড়ে যাওয়ার অনেকটা আশার মুখ দেখছেন।

মেলায় আগত মানুষদের সঙ্গে কথা হলে সোহান হাসান জানান, মেলার সময় বাড়ানোতে কিছুটা সুবিধা হয়েছে। আজকে বন্ধের দিন হওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বই কিনতে আসতে পেরেছি। বই কিনতে মেলার শেষ দিনও আরেকবার এসে ঢুঁ মেরে যাব।

উল্লেখ্য, এবারের বইমেলার জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে মেট্রোরেল। যার কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলায় বেড়েছে মানুষের সমাগম। কারণ মেট্রারেলের কল্যাণে রাজধানীর উত্তরাসহ নানান জায়গায় থেকে মেলায় মানুষ এসেছে। সেটা অন্য সময় যানজটের ভয়ের কারণে মানুষ মেলায় আসতো না সাধারণত। যার ফলে, এবার মেলায় বিক্রি বেড়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় কয়েকগুণ।

বৈশ্বিক করোনা মহামারি ও যানজট এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গত কয়েক বছর বইমেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের যে ভাটা পড়েছিল এবার মেট্রোরেলের কল্যাণে সেটি লাঘব হয়েছে। শুরু থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জমজমাট উপস্থিতিতে সরগরম ছিল বইমেলার প্রতিটি দিন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension