
রাফায় আক্রমণ না থামালে ইসরায়েলকে অস্ত্র না দেওয়ার হুমকি বাইডেনের
এতদিনের জল্পনা-কল্পনা শেষে এবার ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের নিশ্চিত তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিস্তিনের রাফায় বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরুর মুখে ইসরায়েলে প্রাণঘাতী অস্ত্রের চালান স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। গতকাল বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের উপকমিটির সামনে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে প্রকাশ্যে প্রথমবারের মত মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রাফায় আক্রমণ বন্ধ না হলে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।
বুধবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি যে তারা (ইসরায়েল) যদি রাফাহতে যায় তাহলে আমি অস্ত্র সরবরাহ করছি না”।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রাফাহর বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থল অভিযান হিসেবে ধরছে না। ইসরায়েল এখনও রাফাহর কেন্দ্রতে যায়নি। তারা যা করেছে তা সীমান্তে সঠিক।
বাইডেন বলেন, “কিন্তু আমি (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু) এবং যুদ্ধ মন্ত্রিসভাকে স্পষ্ট বলেছি, তারা যদি বেসামরিক জনগণের কেন্দ্রে যায় তাহলে তারা আমাদের সমর্থন পাবে না।”
এ সময় ইসরায়েল যুদ্ধে “লাল রেখা” অতিক্রম করেছে কিনা জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উত্তর দেন “এখনও না”।
তবে সাক্ষাৎকারে বাইডেন স্বীকার করেন যে, হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন অস্ত্র ও বোমাগুলো গত সাত মাসের যুদ্ধে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করতে সহায়তা করেছে।
তবে এ সময় তিনি ইসরায়েলের আত্মরক্ষা সমর্থন ও দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য রাখবে বলে জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইসরায়েলে হাজার হাজার বোমার চালান আটকে দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে তারা ভবিষ্যতে দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে পর্যালোচনা করছে।
এদিকে ইসরায়েল সরকার বলেছে যে তারা মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপে হতাশ।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে যে দুই দেশ “বদ্ধ দরজার আড়ালে” এই মতবিরোধ সমাধান করবে।



