যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বরফ ভাঙতে চায় যুক্তরাষ্ট্র?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে আলোচনা করছে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দূটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন। একটি নতুন কূটনৈতিক চাপ সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মেরামতের জন্য একটি সরাসরি একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প। তারা মনে করছেন, সম্ভবত কিমের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বরফ ভাঙার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে উভয়ের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক ছিল।

সূত্র জানিয়েছে, নীতিগত আলোচনা ত্বরাণ্বিত হলেও নির্বাচিত প্রেসিডেন্টর পক্ষ থেকে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিমের কাছ থেকে কোনও সাড়া পায়নি রয়টার্স।

কিম ট্রাম্পকে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন তা স্পষ্ট নয়। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন চার বছরে কোনও পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব রাখলেও উত্তর কোরীয়রা তা উপেক্ষা করে এবং কিম দেশের ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রাগারের প্রসার করে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে পিয়ংইয়ংয়ের একটি সামরিক প্রদর্শনীতে বক্তৃতার সময় কিম বলেছিলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য যতটা সম্ভব এগিয়েছি।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) কিমের সঙ্গে সিঙ্গাপুর, হ্যানয় ও কোরিয়ান সীমান্তে তিনটি বৈঠক করেছিলেন।

তবে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সুনির্দিষ্ট কোনও ফল বয়ে আনেনি। এমনকি ট্রাম্প তাদের আলোচনাকে ‘প্রেমে পড়ার’ মতো মনোমুগ্ধকর বলে বর্ণনা করেছিলেন।

উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কিম অবশ্য সম্পূর্ণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর পর নতুন নতুন হুমকি দিয়েছে।

নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবার কী ফল দেবে তা স্পষ্ট নয়। অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের একটি প্রাথমিক লক্ষ্য হবে মৌলিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা। তবে পরবর্তী নীতির লক্ষ্য কী হবে বা এ নিয়ে কখন ভাবা হবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়নি। পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নিয়ে একটি সূত্র জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের বৈদেশিক নীতির আরও বেশি চাপের মুখে এই ইস্যুটি আড়ালে চলে যেতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া এখনও প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচন নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। চলতি মাসে কিম বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও উসকানি বাড়াচ্ছে, পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension