
(সদ্যপ্রয়াত কবি হেলাল হাফিজ স্মরণে)
গোলাপ শুকায়ে যাবে একদিন ঝরে যাবে জানি
বাতাসের বেহালার সুরে
কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত হবে পৃথিবীর মন
আজন্ম চঞ্চল স্রোতস্বিনী
আহা, সতীত্ব জ্বালাবে সমুদ্রের সুনীল চিতায়
হেমন্তের বিষণ্ন বাতাসে মরে যাবে কিশলয়
ধরণী ধ্বংস হবে হায়েনার হিংস্র হাসিতে,
তবু কবিতার মৃত্যু নেই।
পুড়ে যাবে পতঙ্গ অনলে
প্রেমিকের হাত ছেড়ে পালাবে প্রেমিকা
সব মধু শেষ করে উড়ে যাবে ভীষণ ভ্রমর
সময়ের সঙ্ঘাতে বিক্ষত হবে কবিতার কালো পাণ্ডুলিপি
আদমের আর্তনাদ তুমুল তরঙ্গে
বিতর্ক বাড়াবে বৈজ্ঞানিক বিবেচনা
কালের কৃষ্ণগহ্বর পাবে অণিমার অনুভূতি
হায় মরে যাবে মহাকাল,
তবু কবিতার মৃত্যু নেই।
বারুদের গন্ধে মরে যাবে ভালোবাসা
মানবিক মারণাস্ত্র মোতায়েন হবে পৃথিবীর পূর্ণিমায়
রূপসীর রোষানালে পুড়ে যাবে প্রেমের পতাকা
ইতিহাসে লেখা হবে পারমাণবিক প্রহসন
ভীষণ ভাটায় উন্মোচিত হবে নদীর নগ্নতা
সমুদ্রের সুগভীর সঙ্গীত সাজাবে শাশ্বত সুনামী
হয়তো তখন মরে যাবে মরুভূমি
মরে যাবে প্রিয় কোকিলের কমনীয় কলতান,
তবু কবিতার মৃত্যু নেই।
আলো জ্বেলে মরে যাবে জোনাকির দল
অমর আশ্বাসে আঁধার আকাশে নাচবে নক্ষত্র
কামনার কোলাহল ক্রমাগত শূন্যতার শোকে
আমাদের আলাপনে আলোড়িত হবে
বেদনার বিবিধ বিষয়
প্রতারিত হবে প্রেমালাপ
সেতারের সুরে কাঁদবে করুণ সন্ধ্যার সেঁজুতি
মায়াবী মৃত্যুর দূত দাঁড়াবে কবি’র দরজায়,
তবু কবিতার মৃত্যু নেই।
অনেক লেখার পরে শেষ হবে কলমের কালি
খাতার পাতায় বাজবে বিপন্ন বেদনার বীণা
প্রেমিকার রক্তিম ললাটে
অন্ধকার এঁকে দেবে কামনার চতুর চুম্বন
বেহুলার বেদনায় হয়তো কাঁদবে কালসাপ
গোধূলি বেলার পথে মরে যাবে রাখালের ক্লান্ত পদচিহ্ন
শোকাহত শিশিরের মতো সব সোনালী সময়
পৃথিবীর—মানুষের শৈশব-যৌবন
মরে গেছে কবি আর কবিতার খাতা,
তবু কবিতার মৃত্যু নেই।



