
অবস্থা বুঝে কর্মসূচি দেবে ২০ দলীয় জোট
রূপসী বাংলা ডেস্ক:অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বুঝে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করবে ২০ দলীয় জোট। বিএনপি ঘোষিত তিনদিনের কর্মসূচি শেষে চলতি সপ্তাহে বা আগামী সপ্তাহে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানায়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে কি করা যায়, রোববারের বৈঠকে সে বিষয়ে জোটের সকল নেতার কাছে মতামত চাওয়া হয় এবং চিন্তা ভাবনা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু কি ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে অনেক নেতাই ২০ দলীয় জোটের ব্যানারে ঢাকায় এবং রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে সমাবেশ করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
রোববার বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টেলিফোনে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্যে রাখেন। তার বক্তব্যে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে করার নির্দেশনাসহ নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের কথা উঠে এসেছে এবং জোটকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। এছাড়াও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তার মায়ের (খালেদা জিয়া) বিষয় ও দেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন তারেক রহমান।
সূত্রে আরো জানা গেছে, বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপি ঘোষিত তিনদিনের কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি জোটের নৈতিক সমর্থনও চেয়েছে বিএনপি। বৈঠকে প্রায় ১২ জন নেতা বক্তব্যে রাখেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমাদের মোক্ষম বিষয় হলো জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং আইনী প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে তার (খালেদা জিয়া) জামিন করনো।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বৈঠকে জোট নেত্রীর সাজায় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করা হয়েছে।
প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সাজার প্রতিবাদে বিএনপি যে কর্মসূচিগুলো দিয়েছে তার সাথে জোট একত্মতা ঘোষণা করেছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিএনপি তিনদিনের কর্মসূচিতে জোট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ভবিষ্যতে ২০ দলীয় জোটের ঐক্যকে আরো প্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় তারেক রহমান টেলিফোনে বক্তব্যে রেখেছেন। তার বক্তব্যে, জনগণের একটি জোট (প্লাটফর্ম) তৈরি করার আহ্বান এসেছে।
বৈঠকে বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, তার জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ সকল গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিও বৈঠকে জানানো হয় বলে জানান ফখরুল।
বিএনপির পক্ষে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যেজোটের (একাংশ) আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



