যুক্তরাষ্ট্র

৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করেও ভরাডুবি, যে কাণ্ড ঘটালেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর দলটির পক্ষে দেওয়া নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মুছে ফেলেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকানদের পেছনে প্রায় ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা (৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার) খরচ করার পর এই ঘটনা ঘটালেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও এক্স ব্যবহারকারীদের সূত্রে জানা গেছে, মুছে ফেলা পোস্টগুলোর মধ্যে গত ২৯ অক্টোবরের একটি পিন করা বার্তা ছিল। ওই পোস্টে আমেরিকানদের রিপাবলিকান সিনেটরদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন মাস্ক। গত বুধবার ভোরে টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জেমস টলারিকোর জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই পোস্টটি মুছে ফেলেন তিনি। এই জয়ের ফলে মাস্কের জোরালো সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন পরাজিত হন।

মাস্ক আসলেই নির্বাচন-সংক্রান্ত পোস্টগুলো সরিয়ে নিচ্ছেন কিনা, এক্স ব্যবহারকারীদের এমন প্রশ্নের জবাবে তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘গ্রক’ উত্তর দেয়- ‘সত্যি’। গ্রক জানায়, ফলাফল আসার পর রিপাবলিকানদের ‘বড় ধরনের পরাজয়’ দেখে মাস্ক তার ‘আজ লাল মার্কায় ভোট দিন!’—সংক্রান্ত পোস্টটি মুছে ফেলেছেন।

গত মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে খুব একটা সরাসরি মন্তব্য করেননি মাস্ক। তবে রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া তার পোস্টটি গ্রক চ্যাটবট প্রচারের কয়েকটি বার্তার মধ্যেই ছিল।

অবশ্য বুধবার সকালে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। পরবর্তীতে এক ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে আমার নির্বাচন-নিয়ন্ত্রণকারী স্পেস লেজারগুলো এবার কাজ করেনি।’ এর কিছুক্ষণ আগেই তিনি পোস্ট করেছিলেন, ‘মহাকাশে ডেটা সেন্টারগুলোর কথা এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে অন্তত ৪৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা খরচ করেছেন ইলন মাস্ক। কংগ্রেসের ওপর রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে প্রচারণার দ্বিতীয় ধাপে খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

তার বড় অঙ্কের অনুদানের উল্লেখযোগ্য অংশ গেছে টেক্সাস সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রিপাবলিকানদের প্রধান সুপার প্যাক ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’ এবং নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও আইওয়ার গুরুত্বপূর্ণ হাউস রেসে। এ ছাড়া প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার সরাসরি তার নিজস্ব রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ‘আমেরিকা প্যাক’-এ ব্যয় করা হয়েছে। ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো, প্রচারকর্মী এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে এই অর্থ খরচ করেছে গোষ্ঠীটি।

নির্বাচনি ধাক্কার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন ইলন মাস্ক। বুধবার তার মোট সম্পদমূল্য প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৮৭৮ বিলিয়ন ডলার। তবে টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দরপতন ঘটায় এক দিনে তার ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে।
নতুন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় এই পতন ঘটে। মাস্কের সম্পদের একটি বড় অংশই আসে এসব কোম্পানিতে থাকা তার শেয়ার থেকে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মাস্কের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ কমে গেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension