প্রধান খবরবইমেলাবাংলাদেশ

শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা

বইমেলার শেষ দিনটি ছিল ছুটির। এদিন সকালে মেলায় ঢল না নামলেও বিকালের পর থেকে পাঠক, বইপ্রেমীরা হাজির হয়েছেন মেলা চত্বরে। প্রায় সবাই পছন্দের বই সংগ্রহে ছিলেন দারুণ ব্যস্ত। কিছু স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে শেষ দিনেও কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা করতে পারেনি অনেক স্টল। এর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে মাসব্যাপী মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় বাংলা একাডেমি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৩ টাকার বই বিক্রি করেছে। একাডেমির সচিব জানিয়েছেন, প্রকাশকদের কাছে বাংলা একাডেমির পাঠানো তথ্য ফর্মে প্রকাশকরা তথ্য না দেওয়ায় এবারের বইমেলায় মোট বই বিক্রির হিসাব প্রকাশ করা যায়নি, যা বইমেলার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শুক্রবার ছিল বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। ‘লেখক বলছি’ মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি শিমুল পারভীন ইতি, গবেষক আবদুল আলীম, গবেষক এমএ মোনায়েম এবং কবি মঈন মুনতাসীর। সমাপনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৫’-এর সদস্য সচিব ড. সরকার আমিন।

প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মফিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। এ ঘটনাটিকে স্মরণ করেই আমরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী বইমেলা আয়োজন করি। আগামী দিনগুলোয় জন-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে বইমেলাকে কী করে আরও সুন্দর করা যায়, সে বিষয়টি আমাদের বিবেচনা করতে হবে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছু অস্থিরতা সত্ত্বেও এ বছর আমরা ‘অমর একুশে বইমেলা’ আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে বইমেলাকে নতুন আঙ্গিকে, নতুন মাত্রায় আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাংলা একাডেমিকে নতুন চিন্তাচেতনার ধারক একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাবহ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাস। মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ভাষার জন্য জীবনদানকারী শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখার একটি মাধ্যম। অনুষ্ঠানে কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমির ‘কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এ ভূষিত হয়েছেন কবি আল মুজাহিদী এবং ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’-এ ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক হান্স হার্ডার ও কথাশিল্পী বর্ণালী সাহা। পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের পুরস্কারের অর্থ, সম্মাননাপত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৪ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথাপ্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করা হয়।

মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৪ সালে প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঠক সমাবেশ (প্লেটো : জীবন ও দর্শন-আমিনুল ইসলাম ভুইয়া), ঐতিহ্য (ভাষাশহিদ আবুল বরকত : নেপথ্যকথা- বদরুদ্দোজা হারুন) এবং কথাপ্রকাশকে (গোরস্তনের পদ্য : স্মৃতি ও জীবনস্বপ্ন-সিরাজ সালেকীন) মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়।

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার : ২০২৪ সালে গুণমান বিচারে সর্বাধিক সংখ্যক শিশুতোষ বই প্রকাশের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কাকাতুয়াকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে নতুন বই এসেছে ৩ হাজার ২৯৯টি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension