
ঠিকাদারি নিয়ে দ্বন্দ্বে ফোনালাপে ‘১৭ বছর খাইনি, এখন খাব’ বলা রাজশাহী মহানগর বিএনপির রাজপাড়া থানা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক রুবেলকে (রবিউল আলম) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চাঁদা দাবিসহ দলীয় শৃঙখলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী অনৈতিক কার্যকলাপের দায়ে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বুধবার (২১ মে) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোটেক রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁদা দাবিসহ দলীয় শৃঙখলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য রাজশাহী নগর বিএনপির রাজপাড়া থানা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আলমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা বলেন, যাকে বহিষ্কার করা হয়েছে তার নাম মাহমুদুল হক রুবেল। কিন্তু সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একটু মিসটেক (মাহমুদুল হক রুবেলের স্থলে রবিউল আলম) হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা এমন দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করবে, দলের হাইকমান্ড কাউকেই ছাড় দেবে না।
উল্লেখ্য, ঠিকাদারি কাজ পাওয়া নিয়ে মোবাইল ফোনেই দ্বন্দ্বে জড়ান রাজশাহী ও নওগাঁর সাবেক দুই বিএনপি নেতা। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে হওয়া এক ফোনালাপ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ১০ মিনিটের ওই ফোনালাপে রাজশাহীর নেতা মাহমুদুল হক (রুবেল) নওগাঁর মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য ও ঠিকাদার শাহজাহান আলীকে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে শোনা যায়, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক রুবেল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘১৭ বছর খাইনি, এখন খাব।’ তিনি অভিযোগ করেন, শাহজাহান কোনো যোগাযোগ না করে নিজের মতো দরপত্রে অংশ নিয়ে কাজ পেয়ে গেছেন। উত্তরে শাহজাহান বলেন, ‘আমিও তো ১৬ বছর পর একটা কাজ পেয়েছি।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) রাজশাহীর বৃক্ষপালনবিদের কার্যালয় থেকে ৯টি লটে গাছ বিক্রির জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে অংশ নেন শাহজাহান আলী। দরপত্র জমা দেওয়ার দিন মাহবুবুরসহ কয়েকজন ঠিকাদার সওজ কার্যালয়ে অবস্থান নেন, যাতে বাইরের কেউ দরপত্র জমা দিতে না পারেন। তবে শাহজাহান আলী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রাখা বাক্সে দরপত্র জমা দেন এবং প্রায় ছয় লাখ টাকায় দুটি লটের কাজ পান। ইতিমধ্যে তাকে টাকা জমা দিতে বৃক্ষপালনবিদের কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।



