
নিউইয়র্কের র্যাঙ্কড চয়েস ভোটে এগিয়ে মামদানি: কুয়োমোকে ছাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রে দক্ষিণ এশীয় প্রার্থী
রূপসী বাংলা | নিউইয়র্ক, জুন ২৩, ২০২৫: নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে প্রগ্রেসিভ রাজনীতিক জোহরান মামদানি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটিং পদ্ধতিতে প্রাক্তন গভর্নর অ্যাণ্ড্রু কুয়োমোর চেয়েও এগিয়ে রয়েছেন। এই তথ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক তৈরি করেছে, বিশেষত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে।
জরিপ অনুযায়ী, ভোটারদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—মামদানির প্রতি তরুণ, অভিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। তাঁর প্রগতিশীল অবস্থান এবং জোরালো ঘরোয়া প্রচারণা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলে এনেছে।
প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতীক মামদানি
জোহরান মামদানি একজন সমাজকর্মী এবং বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য। তাঁর জন্ম নিউইয়র্কেই, তবে তিনি একজন উগান্ডা-মুসলিম ও ভারতীয় হিন্দু পরিবারের সন্তান। তাঁর মা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নাইর, এবং বাবা উগান্ডার প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মাহমুদ মামদানি।
তাঁর বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং অভিবাসী অভিজ্ঞতা তাঁকে নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অভিবাসী সম্প্রদায়ে উচ্ছ্বাস
নিউইয়র্কে দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান অভিবাসীদের মধ্যে মামদানির অগ্রগতি উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই জয় শুধু একজন প্রার্থীর নয়, বরং একটি পরিবর্তনের প্রতীক।
জ্যাকসন হাইটসের এক কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট বলেন, “মামদানি আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিনিধি। তাঁর মধ্যে আমরা নিজেদের স্বর খুঁজে পাই।”
কুয়োমোর চ্যালেঞ্জ ও মামদানির লাভ
অ্যাণ্ড্রু কুয়োমো, যিনি এক সময় নিউইয়র্কের গভর্নর ছিলেন, মেয়র পদে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে অতীতের কিছু বিতর্ক এবং প্রথাগত রাজনীতির ধারা অনেক ভোটারকে বিমুখ করেছে। র্যাঙ্কড চয়েস সিস্টেমে মামদানির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ হিসেবে পাওয়া ভোটগুলো তাঁকে আরও এগিয়ে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মামদানির বহুমাত্রিক গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মাঠপর্যায়ের কাজই এই অগ্রগতির মূল কারণ।
ভবিষ্যতের পথে আশাবাদ
মামদানি সম্প্রতি এক ভাষণে বলেন, “নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমার প্রতিশ্রুতি। আমরা এমন এক শহর গড়ব, যেখানে ক্ষমতা নয়, মানুষ আগে আসবে।”
তাঁর নির্বাচনী শ্লোগান—“People Before Power”—নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।



