
এসএসসি পরীক্ষা: ১৫ বছরে সবচেয়ে কম পাস এবার
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে এবার। গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮৩ দশমিক ৪। ২০১০ সালের পর এত খারাপ ফল আর হয়নি। পরীক্ষার সর্বোচ্চ ফল জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ও ছাত্র ৬৫ হাজার ৪১৬ জন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খোন্দকার এহসানুল কবির গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ফল ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৯ সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪২৬ জন পাস করেছে।
সাধারণ ৯ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৬ জন। আর কারিগরিতে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৪৮ জন।
এবার সবচেয়ে ভালো করেছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা, খারাপ করেছে বরিশাল বোর্ড। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর আছে যশোর বোর্ড ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, কারিগরি বোর্ড ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ড ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ড ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ড ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, ঢাকা বোর্ড ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ড ৬৭ দশমিক ০৩ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ড ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ড ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ, বরিশাল বোর্ড ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
এ বছর কাউকে বাড়তি নম্বর (গ্রেস মার্কস) দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. খোন্দকার এহসানুল কবির। তিনি বলেন, এবার ওপর মহল থেকে চাপ ছিল না। আমাদের বলা হয়েছে যে রেজাল্ট হবে, সেটিই দিতে হবে।
আজ থেকেই ফল পুনর্নিরীক্ষণ
পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে কোনো পরীক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আজ শুক্রবার থকেই আবেদন করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। শুধু টেলিটক সিম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফি লাগবে ১৫০ টাকা।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করতে হবে– আরএসসি <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> বিষয় কোড এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। একাধিক বিষয়ের কোড লিখতে হলে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। যেমন– ১০১, ১০২।
এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষা ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৫ মে শেষ হয়েছে।



