বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলই অনুভূত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। প্রায় প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে নেমে আসে বন্যার আকস্মিক ভয়াবহতা। বছরের পর বছর ধরে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি সবাইকেই দেখতে হয়। এ যেন প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তি। প্রতিবারই আমরা প্রস্তুত হই। কিন্তু প্রতিবারই হাজার পরিবার সব হারিয়ে ফেলে। বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়িই নয় ভেসে যায় মানুষের জীবন, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ। বন্যা হয়তো পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। কিন্তু আমরা যদি পূর্বপ্রস্তুতি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেশে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা খবই জরুরি। বন্যা পরিস্থিতির পূর্বাভাস প্রদানে বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান আধুনিক যুগে উপগ্রহ চিত্র, রিয়েল-টাইম ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করে বন্যার বিস্তৃতি, গভীরতা, এবং গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এর ফলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সহজ হয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস উন্নত করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর কৌশল তৈরি করাও সম্ভব। বর্তমানে অত্যাধুনিক এআই এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বন্যার পূর্বাভাস মডেল উন্নত করার খুবই সহজ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এছাড়াও জলস্তরে সেন্সর, ক্যামেরা এবং অ্যালার্মের মতো টেলিমেট্রি সিস্টেমগুলি ব্যবহার করে ২৪/৭ জলধারা পর্যবেক্ষণ করা যায়। অপরদিকে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে বন্যার আগে সতর্কবার্তা প্রদান করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বন্যা দুর্গত এলাকায় স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে এবং অত্যাধুনিক যুগের ড্রোন ব্যবহার করে বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা যায়। এছাড়াও দুর্গম এলাকায় জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণেও স্যাটেলাইট এবং উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করে অনেক সুফল পাওয়া যায়। বন্যা কবলিত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়। এতে করে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারে। বন্যার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার আগেই সাধারণ মানুষকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কাজও করতে হবে। যদিও বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এর মধ্যেও কিছু সম্ভাবনা রয়েছে যা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। বর্তমানে বন্যা সম্পর্কিত তথ্য, সতর্কতা এবং পরামর্শ প্রদানের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো বন্যা ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য এবং পূর্বাভাস মানুষকে দুর্যোগের জন্য প্রস্তুত হতে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান (আইসিটি সেল), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension