
৯/১১-এর ২৪ বছর: দেশজুড়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণসভা
শাহ্ জে. চৌধুরী
গ্রাউন্ড জিরো, পেন্টাগন ও শ্যাংকসভিলে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা; নেতাদের আহ্বান—একতা ও মানবতার শক্তি অটুট রাখতে হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলা ৯/১১-এর ২৪তম বার্ষিকীতে দেশজুড়ে পালিত হলো স্মরণসভা ও নীরবতা। নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো, ভার্জিনিয়ার পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিলে নিহতদের স্মরণে নতশির হলো হাজারো মানুষ।
গ্রাউন্ড জিরোতে নীরবতা
নিউইয়র্কে সকাল ৮:৪৬ মিনিটে প্রথম নীরবতা পালিত হয়—এই সময়েই ২০০১ সালের সেদিন প্রথম বিমান উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে। পরবর্তী নির্ধারিত সময়গুলোতেও পালিত হয় নীরবতা ও নিহতদের নাম পাঠ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের মেয়র, গভর্নরসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা। রাতের আকাশে জ্বলে ওঠে আলোকস্মারক, যা নিহতদের প্রতি নীরব শ্রদ্ধার প্রতীক।
পেন্টাগনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে নিহতদের স্মরণে ফুল অর্পণ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ৯:৩৭ মিনিটে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা—যে সময়ে ২০০১ সালে বিমানটি আঘাত হেনেছিল পেন্টাগনে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এ বছরের অনুষ্ঠান কিছুটা সীমিত আকারে আয়োজিত হয়।
ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেট বলেন, “৯/১১ আমাদের শিখিয়েছে—যুদ্ধ শুধু প্রতিশোধ নয়, এটি হতে হবে সঠিকভাবে পরিচালিত, মানবতার জন্য দায়িত্বশীল।”
শ্যাংকসভিলে ফ্লাইট ৯৩ স্মরণ
পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিলে ফ্লাইট ৯৩-এর বীর যাত্রীদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। পরিবার ও স্থানীয়রা সেখানে শ্রদ্ধা জানান সেইসব যাত্রীদের, যারা আত্মত্যাগ করে অসংখ্য প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।
নেতাদের বার্তা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্মরণে বলেন—
“আমরা রক্তপাত করতে পারি, কিন্তু পিছু হটব না। আগুনের মধ্য দিয়েও আমরা উঠে দাঁড়াই। ৯/১১ আমাদের এক প্রজন্মকে বদলে দিয়েছে, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস, আমাদের শক্তি অটুট।”
শিক্ষা ও প্রতিজ্ঞা
এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয়—
• ভয় শেষ কথা নয়, সাহসই শেষ কথা।
• বিভক্তি নয়, একতা মানবতার পথ।
• সহমর্মিতা ও দায়িত্বই সমাজকে করে শক্তিশালী।
২৪ বছর পরও শোক অম্লান, তবে সেই শোকই জন্ম দেয় সাহসের নতুন আলো। নিহতদের স্মৃতি আজও আমাদের শিখিয়ে যায়—মানবতার আলো নিভে যায় না।



