
পার্লামেন্টে মোদিকে ‘নেহেরু’ পাঠ শেখালেন প্রিয়াংকা
দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা চলার সময় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় জেলে যে সময়টা কাটিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশের শীর্ষ পদে থাকার সময়ের প্রায় কাছাকাছি।
ওয়েনাডের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেহেরুর বারবার সমালোচনার তীব্র নিন্দা করেন। প্রিয়াঙ্কা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে লক্ষ্য করে বলেন,মোদি ১২ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন। আর, জওহরলাল নেহেরু এই দেশের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে প্রায় একই সময় কাটিয়েছেন। এরপর তিনি ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও বিজেপির প্রতি প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, নেহেরুর শুরু করা প্রতিষ্ঠানগুলো না থাকলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব হতো কি না। তিনি বলেন, আপনারা (বিজেপি) তাঁকে অনেক সমালোচনা করেন, কিন্তু তিনি যদি ইসরো শুরু না করতেন, তাহলে আপনারা মঙ্গলযান পেতেন না। তিনি (নেহরু) যদি ডিআরডিও শুরু না করতেন, তাহলে কোনো তেজস হতো না। তিনি যদি আইআইটি এবং আইআইএম শুরু না করতেন, তাহলে আমরা তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতাম না। তিনি যদি এইমস শুরু না করতেন, তাহলে আমরা করোনার মতো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতাম কী করে?
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং দেশের সেবা করতে করতে মারা গেছেন। উল্লেখ্য, নেহেরু স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ৯ বার কারাগারে গিয়েছিলেন এবং প্রায় ৯ বছর বা ৩,২০০ দিনেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়েছিলেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জওহরলাল নেহেরুর প্রতি করা অপমানগুলোর একটি তালিকা তৈরির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সেটা ৯৯৯ হোক বা ৯,৯৯৯, একটা তালিকা তৈরি করুন এবং তারপর আমরা একটি সময় ঠিক করতে পারি, ঠিক যেমন আমরা বন্দে মাতরম নিয়ে ১০ ঘণ্টা বিতর্ক করছি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যত দিন চান আমরা তা নিয়ে বিতর্ক করতে প্রস্তুত। কিন্তু এর পরে আসুন আমরা এই সংসদের মূল্যবান সময় সেই কাজের জন্য ব্যবহার করি, যার জন্য জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছেন। একবারের জন্য এই অধ্যায়টি বন্ধ করা যাক।
তিনি আরও বলেন, দেশ অভিযোগ শুনবে, ইন্দিরা জি কী করেছিলেন, রাজীব জি কী করেছিলেন, রাজবংশীয় রাজনীতি কী, নেহেরুর ভুল কী- আসুন সেসব নিয়ে কথা বলি এবং সেখানেই তার ইতি টানি। তারপর আমরা বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কথা বলতে পারি।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই বক্তব্যে বিরোধী বেঞ্চে জোরালো হর্ষধ্বনি শোনা যায়।
এর আগে, প্রিয়াঙ্কা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে এই ‘বন্দে মাতরম’ আলোচনাটি পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই সরকার বর্তমানের বাস্তবতা লুকাতে চাইছে বলেই মনোযোগ সরিয়ে দেয়ার জন্য এই বিতর্কটির আয়োজন করেছে।



