যুক্তরাষ্ট্র

অভিভাবকত্ব হারিয়ে মেয়েকে গুলি করে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজের চার বছরের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক নারী। এরপর সিবেল সাভেলা নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে এ ঘটনা ঘটে। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

এবিসি১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়ে ভিভিয়ান সাভেলাকে প্রাক্তন স্বামী অ্যারন সাভেলার কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল সিবেলের। কিন্তু হিউস্টনে নিজের ৮ লাখ ২৪ হাজার ডলারের বাড়িতে মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন তিনি। এরপর নিজেকেও গুলি করেন।

হিউস্টন পুলিশের লেফটেন্যান্ট ল্যারি ক্রাউসন বলেন, ‘অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি শুনানি ওই মায়ের পক্ষে যায়নি। তাই বাড়ি ফিরে নিজের ৪ বছর বয়সী মেয়েকে গুলি করেন, এরপর নিজেকেও গুলি করেন।’

এ ঘটনার পর সিবেলকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু একদিন পর তিনি মারা যান।

ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া সাবেলা ২০২৪ সালের নভেম্বরে অ্যারনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটান। এরপর মেয়ের অভিভাবকত্ব নিয়ে তাদের আইনি লড়াই শুরু হয়।

আদালতের নথিপত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র আট ঘণ্টা আগে সিবেল আইনি লড়াইয়ে হেরে যান। পর্তুগিজ জানা তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতি ছাড়া সিবেল তার মেয়ের সঙ্গে মাতৃভাষা পর্তুগিজে কথা বলতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।

মেয়ের স্কুলের কোনো অনুষ্ঠানে সিবেলের উপস্থিতির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। একই সঙ্গে সন্তানের ভরণপোষণের জন্য প্রাক্তন স্বামীকে অর্থ প্রদান এবং চিকিৎসার যাবতীয় খরচের ৫০ শতাংশ বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে সিবেল কেন অভিভাবকত্ব হারিয়েছিলেন এবং মেয়ের বিষয়ে তার ওপর কেন এত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শিশুটির স্বজনরা জানিয়েছে, ভিভিয়ানের বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর। তাকে সবাই ভালোবাসত। আমরা কী হারিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

তারা আরও বলেন, ‘সন্তানকে সুরক্ষা দিতে একজন অভিভাবকের কাছে আইন যা প্রত্যাশা করে, অ্যারন তার সবটাই করেছিলেন। তিনি আদালতের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।’

তারা বলেন, ‘অ্যারন আদালতের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেছিলেন। তিনি আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। মঙ্গলবার একজন বিচারক ভিভিয়ানের প্রাথমিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব অ্যারনকে দিয়েছিলেন এবং সন্ধ্যায় মেয়েটির তাঁর কাছে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফেরেনি।’

কেএইচওইউয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারনের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী শার্লট রেইনওয়াটার বলেন, ‘এ ঘটনায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ২৮ বছর ধরে পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করছি এবং আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension