
জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পাওয়ার দুই দশক পর নতুন পুরস্কারের পাশাপাশি সংগীতশিক্ষা নিয়েও পরিকল্পনা করছেন এই শিল্পী।
টেলিভিশনের গানের প্রতিযোগিতা থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ—রন্টি দাশের সংগীতজীবন এগিয়েছে রেকর্ডিং, পরিবেশনা ও নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে। সেই পথচলায় নতুন সংযোজন ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। সেরা মেলোডি সিঙ্গার (ফিমেল) বিভাগে এই সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি তুলে দেন সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন।
চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া রন্টির গানের সঙ্গে পরিচয় শৈশবে। শুরুতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা তাঁর প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়। ২০০২ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এ দ্বিতীয় রানারআপ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান।
‘ক্লোজআপ ওয়ান’ তাঁর সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই প্রতিযোগিতার পর পেশাগতভাবে কাজের পরিসর বাড়তে থাকে। আধুনিক বাংলা গান ও লোকসংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের গানেও যুক্ত হন তিনি।
রেকর্ডিং স্টুডিও, টেলিভিশন ও কনসার্ট—ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে শ্রোতাদের সামনে এসেছেন রন্টি। ‘হ্যালো বৃষ্টি’, ‘রং’, ‘একেলা’ ও ‘অভিমানী’ তাঁর গানের ভান্ডারের অংশ। প্লেব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গেও গড়ে উঠেছে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক।
দেশের বাইরে পরিবেশনার সুযোগ তাঁর সংগীতযাত্রাকে আরও বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে নিউইয়র্কে থাকলেও বাংলা গানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখে বিভিন্ন দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এবার নিজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। ‘রন্টিস মিউজিক কিচেন’-এ শাস্ত্রীয়, লোক ও আধুনিক গানের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত এবং কণ্ঠের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইন ও সরাসরি শেখার সুযোগের সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পাঠদানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
যে টেলিভিশন প্রতিযোগিতা তাঁকে দেশজুড়ে পরিচিত করেছিল, তার দুই দশক পর নতুন সম্মাননা পেলেন রন্টি। সামনে নতুন গান ও শিক্ষাদানের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চান তিনি। এতে তাঁর সংগীতজীবনে পরিবেশনার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রও তৈরি হচ্ছে।



