প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাম গণতান্ত্রিক জোট

প্রধান দাবি নির্বাচনী ব্যবস্থার পরিবর্তন

  যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে কোন জোট নয়

জাকির হোসেন  রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক:  জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি যাই থাকুক, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বাম গণতান্ত্রিক জোট। তাদের দাবি নির্বাচনকালীন যে সরকারই থাকুক শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে, সকল ক্ষমতা থাকতে হবে নির্বাচন কমিশনের হাতে। তবে নির্বাচনে জয় পরাজয়ের চেয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গোটা নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চায় এই জোট। তাদের দাবি সংসদে প্রতিনিধিত্ব হতে হবে সংখ্যানুপাতিক হারে। তাহলে নির্বাচন ঘিরে বারবার যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় সেটি আর থাকবে না। এ লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামকে ছাড়া সব দলের সঙ্গে নির্বাচনি পদ্ধতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে আগ্রহী এই জোট। বাম দলের নেতারা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে হলেও সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।

সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ মার্কসবাদী, কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এই ৮টি দলের যে বাম গণতান্ত্রিক জোট তার নেতৃত্বে মূলত সিপিবি-বাসদ।

গত নির্বাচন বর্জন করলেও এবার নির্বাচন নিয়ে তারা ইতিবাচক। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে কিছু দাবি আছে তাদের। এসব দাবিতে তারা কিছু কর্মসূচিও দিয়েছে । তবে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আন্দোলন বা নির্বাচনে শুধু বামদলগুলোরই ঐক্য হবে।

বাম নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলেই কেবল সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের  দাবিতে কিছু কর্মসূচি দিয়েছে বাম জোট। তবে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের আন্দোলন বা নির্বাচনে শুধু বামদলগুলোরই ঐক্য হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পলিটবুরের সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। আমরা চাই নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ হয়। নির্বাচনকালীন সরকার যেন কেবল মাত্র রুটিন ওয়ার্ক করে। মূল যাতে নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে এবং সেই নির্বাচন কমিশন যেন রকিব মার্কা না হয়।

জোটের পরিধি বাড়ানো বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত বামের বাইরে কাউকে নিচ্ছি না। আমরা আওয়ামী লীগ, বিএনপি কারও সঙ্গে যাচ্ছি না। আর কামাল হোসেন-বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে যে হয়েছে এদের চিন্তভাবনা পরিষ্কার নয়। ফলে এদের সঙ্গেও আমরা যাচ্ছি না। এদের মধ্যে বহু গোজামিল আছে।

নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে হায়দার আকবর খান রনো বলেন,  নির্বাচন কেমন হবে, কতখানি নিরপেক্ষ হবে, টাকার খেলা কতখানি থাকবে, সাম্প্রদায়িক উস্কানি থাকবে কি-না, এই সমস্ত বিষয়গুলো কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন প্রসঙ্গে আমাদের একটি গুরত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা বা দাবি আছে সেটা হল, নির্বাচন পদ্ধতিরই পরিবর্তন করতে হবে।

বাম জোটের শরিক গণসংহতি আন্দোলন মনে করছে, সাংবিধানিক সংস্কার ও নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব দলকে নিয়ে একটি জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সামাজিক চুক্তির বিকল্প নেই।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি জানান, যদি নতুন একটা সামজিক চুক্তি জাতীয় সনদের ভিত্তিতে করা যায় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো মিলে কিভাবে রাজনীতিটা হবে সেটা যদি আমরা ঠিক করতে না পারি তাহলে দেশ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাবে। এই সংঘাত আমাদের রাজনীতি এবং দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে তা আমরা জানি না। তবে নিঃসন্দেহে তা ইতিবাচক হবে না।আর বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সংবিধান সংশোধন করে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠনে চাপ সৃষ্টিতে এইজোট কাজ করে যাবে।

তিনি বলেন, চাপ বাড়াতে পারলে সরকার কিছুটা নমনীয় হয়ে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমরা যে সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছি, সেভাবে তারা কার্যকর রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension