
এই আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করবে: সাকি
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্কঃ ডিজিটার নিরাপত্তা আইন কার্যকর হলে অনুসন্ধানী ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। এই আইন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সাধারণ মানুষের ভাবনার ওপর আক্রমণ বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘মনির-আজাদ সেমিনার কক্ষে’ আয়োজিত ‘গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: সংবাদমাধ্যম ও নাগরিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল নির্যাতনমূলকই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মানুষের চিন্তার ওপর আক্রমণ। এই অগণতান্ত্রিক আইন ঠেকাতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ দরকার।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার সব সুযোগ এই আইন রুদ্ধ করবে। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম ও গণবিরোধী কিছু ঘটলে জনগণের সামনে তা উন্মোচন করা।’
‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, একদিকে সরকার আইন করছে ফৌজদারি আইনেও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করা যাবে না। অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তল্লাশির পরোয়ানা ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার ও তল্লাশি করার অধিকার পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।‘
সাংবিধানিকভাবে একক ব্যক্তিকে সর্বময় ক্ষমতা প্রদান এবং তা রক্ষায় এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন জোনায়েদ সাকি। বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে যেভাবে একক ব্যক্তির হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছে, সেই কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে যেন কেউ কথা বলতে না পারে, তার জন্য পরিপূরক হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।’
সভার শুরুতেই লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল।
বক্তব্য দেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, বাংলাদেশ মুঠোফোন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, শিল্পী ও গবেষক অরূপ রাহীসহ গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এই আইনে জামিন পাবার মৌলিক মানবাধিকারকেও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার ফলে মানুষ কার্যত তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে।’
বক্তারা বলেন, এই আইনের পূর্বসূরি ৫৭ ধারায় এখনও গ্রেপ্তার আছেন শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। ৬১ দিন ধরে আটক আছেন ছাত্র ফেডারেশন নেতা মারুফ হোসেন। হয়রানির শিকার হয়েছেন আরও অনেকে।
সংবাদমাধ্যম ও জনগণের স্বাধীনতাবিরোধী এই আইন অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অপরাজিতা চন্দ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম সবুজ, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফাসহ প্রমুখ।



