আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

বাংলা ভাগের কথা ভাবেননি ক্লিমেন্ট অ্যাটলি

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট: ভারত ভাগ হয়ে গেলেও বাংলা অবিভক্ত থাকবে বলে মনে করেছিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি। ভারত ভাগের পরিকল্পনা করার সময়ে এমনই মনে হয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।

সম্প্রতি ভারত ভাগ এবং সেই সময়ের নানাবিধ নথি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ‘ডন’ সংবাদপত্র। সেই সকল নথি এং প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে নানাবিধ চাঞ্চক্যকর তথ্য। যা সাত দশক পরেও খুঁচিয়ে তুলেছে দেশভাগের আবেগকে।

ডন-এর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে যে মার্কিন বিদেশ দফতর সম্প্রতি কিছু গোপন ঐতিহাসিক নথি প্রকাশ করেছে। সেই নথি অনুসারে ভারত ভাগের পরিকল্পনার কথা আমেরিকাকেই প্রথম জানিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি। ১৯৪৭ সালের ২ জুন ব্রিটেনে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত লুইস উইলিয়াম ডগলাস একটি ‘জরুরি ও গোপনীয়’ টেলিগ্রাম পাঠান মার্কিন বিদেশ সচিব জর্জ মার্শালকে। ওই ‘গোপন’ টেলিগ্রামে ডগলাস লেখেন, আজ দুপুরেই আমাকে নিজের দপ্তরে ডেকেছিলেন অ্যাটলি। ভারত ভাগ নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা আমাকে জানিয়েছেন।

সেই সকল নথির তথ্য বলছে ক্লিমেন্ট অ্যাটলি মনে করেছিলেন যে দেশভাগ হলে বাংলা স্বাধীন থাকতে চাইবে। ভারত বা পাকিস্তান, কোনও দিকেই যোগ দিতে চাইবে না। বঙ্গভাগ মেনে নেবেন না সেখানের মানুষ। ১৯৪৭ সালের জুন মাসের তিন তারিখে দেশভাগের পরিকল্পনার কথা ভারতবাসীর উদ্দেশে ঘোষণা করেন ভাইসরয় লুইস মাউন্টব্যাটেন। তাঁর ঘোষণা যখন সম্প্রচারিত হচ্ছে, অ্যাটলি তখন ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডগলাসকে আগের দিনই যাবতীয় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ডগলাসকে অ্যাটলি বলেছিলেন, “তিনি চান পঞ্জাব ও বাংলার জনপ্রতিনিধিরাই সিদ্ধান্ত নিন দেশভাগের পর এই দুই বড় প্রদেশ কোন দিকে যোগ দেবে। তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তাহলে বাংলা আর পাঞ্জাবকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।”

পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাটলি ভেবেছিলেন যে পাঞ্জাবের ভাগ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাংলা হয়তো বিভাজনের পক্ষে সায় দেবে না। হিন্দুস্থান বা পাকিস্তান, কোনও দিকেই যোগ দিতে চাইবে না। তেমনটা হলে বাংলাকে পৃথক একটি রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। সেই বিকল্প রাস্তা পাঞ্জাবের ক্ষেত্রেও খোলা থাকবে। কিন্তু পাঞ্জাবের ক্ষেত্রে সেই পথে হাঁটা প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করেছিলেন অ্যাটলি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তেমনটাই জানিয়েছিলেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

যদিও ১৯০৫ সালে বাংলা-বিহার-ওডিশা ভাগ করেছিল ব্রিটিশ। তা নিয়ে বিতর্ক কিছু কম হয়নি। অ্যাটলির সেই সকল রাজ্যে সম্পর্কে কী পরিকল্পনা করেছিলেন তা অবশ্য স্পষ্ট বোঝা যায়নি মার্কিন বিদেশ দফতরের প্রকাশিত নথিতে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension