প্রধান খবরবাংলাদেশ

নোয়াখালীর দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুজন গ্রেফতার

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বার ইউনিয়নে চার সন্তানের জননীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে একজনকে এলাকা থেকে এবং অপরজনকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা থেকে সোহেলকে এবং লক্ষ্মীপুর থেকে স্বপনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে সোহেল এজারহার নামীয় ৩ নাম্বার আসামি। স্বপন ১ নাম্বার আসামি। ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় এ নিয়ে ৯ আসামির মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বাদশাহ আলম প্রকাশ ওরফে কুড়াইল্যা বাদশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাদশাহ এজারহার নামীয় ৬ নাম্বার আসামি।
 
মামলার বাদীর অভিযোগ, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তার ১০-১২ জন অনুসারী ৩০ ডিসেম্বর রোববার গভীর রাতে তাদের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর তাকে এবং সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে ঘরের বাইরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তবে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনকে আসামি করা হয় নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
 
এদিকে চরজব্বার থানা পুলিশ ৩১ ডিসেম্বর সোমবার রাতে মামলা করার জন্য পুলিশের গাড়িতে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তিনি পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন। পুলিশ তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী একটি অভিযোগ লিখে নেয়। তবে পুলিশ তাকে এজাহারটি পরে শোনায় নি এবং কাদের আসামি করা হয়েছে তাও তাকে বলে নি। বাদী আরো বলেন, ‘আমি পড়ালেখা না জানায় এবং স্ত্রীর মুমূর্ষ অবস্থা নিয়ে দিশেহারা থাকায় এটা নিয়ে আর মাথা ঘামাই নি। তবে ঘটনার মূল হোতা রুহুল আমিন। কিন্তু মামলায় তার নামই নেই।’
 
সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় যদি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। চরজব্বার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বাদী যাদের নাম বলেছে তাদেরকে আসামি করা হয়েছে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বাদী ও তার স্ত্রী যদি রুহুল আমিন মেম্বারকে শনাক্ত করে থাকে তাহলে তদন্ত করে দেখা হবে।
 
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াস শরীফ বলেন, মামলার বাদী যদি রুহুল আমিন মেম্বারকে শনাক্ত করে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে আসামি করার সুযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ৯ আসামির মধ্যে ৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
প্রচ্ছদের ছবি: প্রতীকী ছবি
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension