
ঐতিহাসিক ব্রিগেডের দিনেই সম্প্রচারিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু আশঙ্কা
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: তিনি বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি। তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনওদিনই কোনও সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আশঙ্কা করেছিলেন এক ইতিহাসবিদ এবং এক সাহিত্যিক। ব্রিগেডে প্যারেড গ্রাউন্ডের ঐতিহাসিক জনসভার দিনেই শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু আশঙ্কার কথা সরাসরি বলেছিলেন তাঁরা।

১৯৭২ সাল ৬ ফেব্রুয়ারি। বমগবন্ধুর প্রথম বিদেশ সফর। স্থান কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড। আয়োজক ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। জনসমাগমের দিক থেকে সেই জনসমুদ্রের আয়তনের রেকর্ড আজও অক্ষুন্ন।
সেই জনসভার ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার পঙ্কজ সাহা। এর মাঝেই এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু আশঙ্কার কথা সরাসরি বলে দেন ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, সাহিত্যিক সত্যেন সেন। সরাসরি সম্প্রচারিত সেই অনুষ্ঠান দেখেছিলেন শেখ মুজিবর রহমানও।

পঙ্কজ সাহা তাঁর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মুজিবের ব্রিগেড সভার ধারাভাষ্য দেওয়া হচ্ছিল আকাশবাণী থেকে। এর মাঝেই দূরদর্শন থেকে জরুরী তলব করা হয় অফিসে ফিরে আসতে। দিল্লী থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় একটি আলোচনা অনুষ্ঠান করা হবে যা দূরদর্শন এবং ঢাকা টেলিভিশন থেকে একসঙ্গে প্রচার করা হবে। অনেক আলোচকদের অন্যতম ছিলেন ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার, সাহিত্যিক সত্যেন সেন, নাট্যব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্রের মতো ব্যক্তিত্ব।
পঙ্কজ সাহা সেই অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণে বলেছিলেন, “অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচার হচ্ছিল। আলোচনার প্রসঙ্গক্রমে হঠাৎ করে ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার এবং সাহিত্যিক সত্যেন সেন একটু বিপত্তি করে ফেলেন কিছু আশঙ্কার কথা বলে। ওনারা দুজনেই পূর্ববঙ্গের মানুষ। ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করেছেন বহু বছর। সত্যেন সেনও পূর্ববঙ্গের বহু আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন যে তাঁরা ওপার বাংলার মানুষের অনুভূতি, আবেগ প্রত্যক্ষ করেছেন খুব কাছ থেকে। তাই যদি তাঁদের ভুল না হয় তবে ব’লা যায়, শেখ মুজিবের এ জনপ্রিয়তা বেশীদিন স্থায়ী হবে না; শেখ মুজিবুর রহমান বিপদের সন্মুখীন হবেন। অনুষ্ঠানটি যেহেতু সরাসরি প্রচারিত হচ্ছিল, তাই কোনও কথা সেন্সর বা বাদ দেওয়া যাচ্ছিল না। অথচ শেখ মুজিব ও অন্যান্যরা কলকাতার অতিথি ভবন থেকে অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন। অনুষ্ঠান দেখছিলেন দুই দেশের কোটি কোটি মানুষ। তাই অনুষ্ঠান সঞ্চালক হিসেবে বারবার বলছিলাম, আপনাদের এ আশঙ্কা ভুল প্রমানিত হোক আমরা এ কামনা করি। শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘজীবি হোন”।

বিস্ময়করভাবে তাঁদের কথা ভুল প্রমানিত হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকালে একদল তরুণ সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে ধানমণ্ডির রাষ্ট্রপতি বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবার এবং তাঁর ব্যক্তিগত কর্মচারীদের হত্যা করে। তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা (বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। বেঁচে যান তাঁরা।




