প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

‘ছোট ভাই’ আশরাফের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চোখে জল

রূপসী বাংলা ডেস্ক: দলের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে নিয়ে একাদশ সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৈয়দ আশরাফকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতো দেখতেন জানিয়ে এক পর্যায়ে তিনি কেঁদে ফেলেন।

বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রধান অধিবেশনের প্রথম দিনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে উঠেন প্রধানমন্ত্রী।

আবেগজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর গলা ধরে আসে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন,‘আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

‘সৈয়দ আশরাফকে হারিয়ে আমাদের দল ও দেশের অনেক ক্ষতি হলো। আমার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, আসলে ওকে আমি ভাইয়ের মতো দেখতাম।’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৩ জানুয়ারি মারা যান। তিনি ফুসফুসে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে নির্বাচন করেন আশরাফ। এরপর প্রতিটি নির্বাচনে তার জয়ের ব্যবধান কেবল বড় হয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রমাণ রাখেন।

মিষ্টভাষী এই রাজনীতিক যে অন্যদের চেয়ে আলাদা সেটা বুঝতে ভুল হয়নি দেশবাসীর। তিনি এমনকি তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও সমাদৃত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দল মত নির্বিশেষে সবাই শোক জানিয়ে তাকে স্মরণ করেছে।

সংসদে শোক প্রস্তাবে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা আশরাফকে স্মরণ করে তাকে ভিন্ন ধাঁচের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘সৈয়দ আশরাফ অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। আমার পরিবারের সদস্যদের মতো ছিল, আমাকে বড় বোনের মতো শ্রদ্ধা করত। প্রতিটি ক্ষেত্রে সে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অসাধারণ মেধাসম্পন্ন নেতা ছিলো সৈয়দ আশরাফ। পৃথিবীর যেকোনো রাজনৈতিক দর্শন ওর নখদর্পণে ছিল। ভাবতেই পারিনি ও এতো তাড়াতাড়ি চলে যাবে।’

‘ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছিল সৈয়দ আশরাফ। আজ  আমরা যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি সেক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফেরও বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। অসম্ভব সহজ সরল ছিল সে।’

‘ভাইদের হারিয়ে যে কয়জনকে ভাইয়ের মতো পেয়েছিলাম, সৈয়দ আশরাফ তাদের একজন। তার বাবা দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন, সৈয়দ আশরাফও দীর্ঘদিন মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু সবসময় অসম্ভব সৎ জীবন-যাপন করেছে।’

আশরাফের সততার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওর টাকা নেই, পয়সা নেই। কষ্ট করে চলতে হতো। তার চিকিৎসার জন্য যা যা করার আমি করেছি। তার মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানী রাজনীতিকের চলে যাওয়ার ক্ষতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যু দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এবং দেশের জন্য চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

আশরাফকে ভোট দেওয়ায় কিশোরগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অসুস্থ অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসায় থাকা অবস্থাতেই সৈয়দ আশরাফকে মনোনয়ন দেই। ওকে আমি বাদ দিতে পারিনি। ও বিদেশে চিকিৎসায় ছিলো কিন্তু প্রার্থী কেন নেই একটিবারের জন্যও তার এলাকার লোক প্রশ্ন করেনি। তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছে।যেদিন আমরা শপথ নেই সেদিনই ওর মৃত্যুর খবর পেলাম। এটা অনেক কষ্টকর যে সৈয়দ আশরাফ শপথ নিতে পারল না।’

আশরাফের আসনে আবার নির্বাচন হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ বেছে নিয়েছে প্রয়াত নেতার বোন সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপিকে। আশরাফের স্মৃতি ধরে রাখতে কিশোরগঞ্জবাসী লিপিকে ভোট দেবে বলেও আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এবং জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও শোক প্রস্তাবে বক্তব্য রাখেন।ঢাকাটাইমস

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension