
পিআইবির নতুন চেয়ারম্যান আবেদ খান
বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খানকে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছে সরকার। সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ১৫ সদস্যের নাম প্রকাশ করেছে। পিআইবি আইন, ২০১৮-এর ৭ ধারা অনুযায়ী এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আবেদ খান পিআইবিতে প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। তিনি প্রকাশিতব্য দৈনিক জাগরণের সম্পাদক।
মুক্তিযোদ্ধা আবেদ খান অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। তিনি ১৯৬২ সালে আবেদ খান দৈনিক ‘জেহাদ’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতা আরম্ভ করেন। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন দৈনিক ‘সংবাদ’-এ। ১৯৬৪ সালে যোগদান করেন দৈনিক ইত্তেফাক-এ। ১৯৯৫ সালে আবেদ খান ইত্তেফাক থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর জনকণ্ঠে সম্পাদকীয় পাতায় তাঁর ‘অভাজনের নিবেদন’ প্রকাশের পাশাপাশি প্রথম পাতায় ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে। ‘গৌড়ানন্দ কবি ভনে শুনে পুণ্যবান’ কলামটি জনকণ্ঠে প্রকাশিত তাঁর স্যাটায়ার-ধর্মী জনপ্রিয় কলাম। সেই সময় দৈনিক ভোরের কাগজ-এর প্রথম পাতায় তাঁর ‘টক অব দ্য টাউন’ শিরোনামের মন্তব্য প্রতিবেদনটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। একই কাগজে সে-সময় তাঁর উপসম্পাদকীয় কলাম ‘প্রাঙ্গণে বহিরাঙ্গনে’ প্রকাশ হতে থাকে। দৈনিক সংবাদে তিনি ‘তৃতীয় নয়ন’ নামে একটি অন্তর্দৃষ্টি-বিশ্লেষণাত্মক কলাম ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন। ১৯৯৮ সালে নতুন দৈনিক প্রথম আলো-তে ‘কালের কণ্ঠ’ শিরোনামে তাঁর উপসম্পাদকীয় কলাম প্রকাশ হতে থাকে। পরে ২০০৯ সালে আবেদ খানের নেতৃত্বে ‘কালের কণ্ঠ’ নামের একটি দৈনিক পত্রিকা বাজারে আসে।
১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি একুশে টেলিভিশনের সংবাদ ও চলতি তথ্য বিষয়ে প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ১৯৯৬-’৯৯ সালে বিটিভি-তে প্রচারিত তাঁর অনুসন্ধানমূলক টেলিভিশন রিপোর্টিং সিরিজ ‘ঘটনার আড়ালে’ টেলিভিশন-সাংবাদিকতার আরেকটি জনপ্রিয় চূড়া। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৩০ জুন কালের কণ্ঠ থেকে পদত্যাগের পর তিনি ২০১২ সালের জুন মাসে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৩ সালের এপ্রিলে তিনি এটিএন নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ‘জাগরণ’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। এর আগে তিনি ২০০৩-২০০৫ সালে দৈনিক ‘ভোরের কাগজ’, ২০০৫-২০০৬ সালে দৈনিক ‘যুগান্তর’, এবং ২০০৬-২০০৯ সালে দৈনিক ‘সমকাল’-পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
নবগঠিত পিআইবির পরিচালনা বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ মনোনীত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। এ ছাড়া তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ পোস্টের প্রধান সম্পাদক শরীফ সাহাবুদ্দিন, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ দীপ আজাদ, একই সংগঠনের সদস্য শেখ মামুনুর রশীদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ সংবাদদাতা অনুপ খাস্তগীর এ বোর্ডের সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন। পিআইবির মহাপরিচালক এই বোর্ডের সদস্য সচিব।



