অগ্নিঝরা মার্চমুক্তিযুদ্ধস্বাধীনতা

বাংলার কথা বিশ্ববাসীকে জানাতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি বঙ্গবন্ধু

জাকির হোসেন

আজ ১০ মার্চ। একাত্তরের এই দিনে (১০ মার্চ, বুধবার) দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন আরো তুঙ্গে ওঠে। স্বাধীনতাকামী পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মুক্তি আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই বাড়তে থাকে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে স্বাধীনতার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এদিন আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, মুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়িত ও স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণ সংগ্রাম ও সবকিছু ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় সংকল্প থাকবে। দেশবাসীর এই উচ্চ নৈতিকতা বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের জনগণ জানে ইতিহাস তাদের পক্ষে এবং যে কোনো ধ্বংসকারী অস্ত্রই প্রয়োগ করা হোক না কেন, জনগণের চূড়ান্ত বিজয় হবেই। তিনি বাংলার মানুষের প্রকৃত অবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করেছেন সে বিষয়ে এদিন পশ্চিম পাকিস্তানের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট নাগরিকগণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দৈনিক পাকিস্তান’ অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। কালবিলম্ব না করে জনগণের দাবি মেনে নেয়ার কথাও বলা হয়। অন্যদিকে এদিন পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সমালোচনা করে সম্পদকীয় প্রকাশ করে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য পিপল’।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সারা বাংলায় অসহযোগ চলতে থাকে। এ দিন নারায়ণগঞ্জ জেল থেকে ৪০ জন কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার সময় কারারক্ষীদের গুলিতে একজন কয়েদি নিহত হয়। আহত হয় দুই পুলিশ ও ২৫ কয়েদি। রাজশাহী শহরে আরোপিত কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। একই দিনে নিউইয়র্ক প্রবাসী পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা জাতিসংঘ সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

পরদিন ১১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এসব ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এদিন (১০ মার্চ, বুধবার) দৈনিক ইত্তেফাক ‘জাতিসংঘ সেক্রেটারী জেনারেলের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়… বাংলার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে শেখ মুজিব’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৬ কলামে প্রকাশ করে। এছাড়া ইত্তেফাক ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ৮৬ হাজার টন খাদ্য শস্য আটকা পড়িয়া আছে’, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলের ৪০ জন কয়েদীর পলায়ন, গোলাগুলীতে একজন কয়েদী নিহত: ২জন পুলিশ ও ২৫ জন কয়েদী আহত’, ‘নিউইয়র্ক প্রবাসী বাঙালী ছাত্রদের বিক্ষোভ: পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা’ চূড়ায় চূড়ায় কালো পতাকা’, ‘ওয়ালী খান বলেন-’ শিরোনামে ১০ মার্চের কয়েকটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।

 

 

আজাদ এদিন ‘বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত: মুজিব, জনগণ শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম করিবে শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৮ কলামে প্রকাশ করে। আজাদ-এ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত অন্য সংবাদগুলোর শিরোনাম ছিল, ‘১১৪ নম্বর সামরিক আদেশ জারী: সৈন্যদের খাদ্য সরবরাহে বাধা প্রদান চলিবে না’, ‘প্রদেশের অসহযোগ আন্দোলন’,‘জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলকে স্থানান্তরের প্রয়োজন নাই’, ‘ঢাকা শহরে থমথমে ভাব বিরাজমান’, ‘জেল পুলিশের গুলীতে একজন বন্দী নিহত ও পচিশ জন আহত: নারায়ণগঞ্জের জেলের ফটক ভাঙিয়া ৪০ জন কয়েদীর পলায়ন ইত্যাদি।

আর সংবাদ এদিন ‘মুক্তি অর্জনে বাংলার মানুষ অটল থাকিবে : মুজিব’ শিরোনামে প্রধান খবর হিসেবে ৮ কলামে প্রকাশ করে। এ ছাড়াও সংবাদ ‘ন্যাপের পথসভা: আন্দোলনকে শোষণমুক্ত সমাজ কায়েমের লক্ষ্যে পৌঁছাইয়া দিন’ ‘১১৪ নম্বর সামারিক আইন বিধি জারী’, ‘অসহযোগ চলছেই’, পুলিশের সহিত গুলী বিনিময়ে ১৯ জন আহত: ১ জন নিহত, নারায়ণগঞ্জে জেল ভাঙিয়া ৪০ জন কয়েদী পলায়ন’,‘পাবনায় অসহযোগ আন্দোলন শুরু’ শিরোনামে কয়েকটি খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। ‘৭১-এর ১১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ-এ প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হল :

মুক্তি অর্জনে বাংলার মানুষ অটল থাকবে : মুজিব
(নিজস্ব বার্তা পরিবেশক) :
‘মুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়িত ও স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বাঁচিয়া থাকার অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম ও সবকিছু ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় সংকল্প থাকবে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল (বুধবার) এক বিবৃতিতে উপরোক্ত ঘোষণা করেন। শেখ সাহেবের বিবৃতির পূর্ণ বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলো :

জনগণের ইচ্ছাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে কাজ করিতেছে। সেক্রেটারিয়েট, সরকারি, আধাসরকারি সংস্থাসমূহ, আদালতসমূহ, রেলওয়ে, সমুদ্র ও নদী বন্দরসমূহসহ সরকারের সকল বিভাগ বাংলাদেশের জনগণের নামে আমাদের দ্বারা জারীকৃত নির্দেশ অনুসারে কাজ করিতেছে। যাহারা এই কথা ভাবে যে, তাহারা শক্তিবলে আমাদের উপর তাহাদের ইচ্ছা চাপাইতে পারে, বিশ্বের নিকট তাহাদের খোলস উন্মাচিত হইয়া পড়িয়াছে। বিশ্ব জনমত বা পশ্চিম পাকিস্তানের বিবেকবান জনসাধারণের নিকট তাহারা নিরীহ-নিরস্ত্র জনগণের বিরুদ্ধে শক্তির নগ্ন ব্যবহারের যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যর্থ হইয়াছে।’

‘কিন্তু তৎসত্ত্বেও অপরিণামদর্শী গণবিরোধী শক্তিসমূহ অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপ চালাইয়া যাইতেছে। প্রত্যেক দিনই পশ্চিম পাকিস্তান হইতে অস্ত্র ও সৈন্য আনয়ন করা হইতেছে। রংপুর ও রাজশাহীতে কারফিউ জারী করা হইতেছে। শাসকচক্র দৈহিক ধ্বংস সাধনের জন্য শুধু শক্তিরই সমাবেশ ঘটাইতেছে যা, তাহারা বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করারও ষড়যন্ত্র চালাইতেছে। জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার আরো অবনতি সাধনই ইহার উদ্দেশ্য। অথচ ২৩ বছরে উপনিবেশিক শোষণের ফলে এই অর্থনীতি এমনিতেই নাজুক অবস্থায় আসিয়া দাঁড়াইয়াছে।’

‘একটা ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হইয়াছে এবং ইহার দ্বারা বিদেশী বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ ছাড়িয়া যাইতে ভীতিগ্রস্ত করিয়া তোলা হইতেছে। জরুরী অবস্থার ন্যায় এই সামরিক সজ্জাকালে সকল উন্নয়নমূলক কাজ এমনকি ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় পুনর্বাসন কাজও বন্ধ হইয়া পড়িয়াছে। এমনকি দুর্গতদের সাহায্যের জন্য প্রাপ্ত সাহায্যের হিসাব যার যার দাবি জানান সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় নাই।’

‘আজ জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল উথান্ট জাতিসংঘ কর্মচারীদের এখান হইতে অপসারণের অনুমতি দিয়াছেন। বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর কার্যকলাপ জানমালের প্রতি যে বিরূপ বিপজ্জনক হইয়া পড়িয়াছে ইহার দ্বারা তিনি উহাই স্বীকার করিয়াছেন। কাজেই তাহার দায়িত্ব শুধুমাত্র জাতিসংঘ কর্মচারী অপসারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহে। কারণ যে হুমকি আসিয়াছে উহা গণহত্যার শামিল এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের প্রাপ্য মৌলিক অধিকারের অস্বীকারেরই নামান্তর।

মুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়িত ও স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বাঁচিয়া থাকার অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম ও সবকিছু ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় সংকল্প থাকিবে। তাহাদের উচ্চ নৈতিকতা বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট অনুপ্রেরণা হইয়া থাকিবে। বাংলাদেশের জনগণ জানে ইতিহাস তাহাদের পক্ষে এবং কোনো শক্তি, তাহা যে কোনো ধ্বংসকারী অস্ত্রই প্রয়োগ করুক না কেন, তাহাদের চূড়ান্ত বিজয় রুখিতে পারিবে না।’ (সংবাদ: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার, ১৯৭১)

 

 

বাংলার মানুষের প্রকৃত অবস্থা বিশ্ববাসীর সামনে তুলিয়া ধরুন
বিদেশী সাংবাদিকদের প্রতি শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বান
স্টাফ রিপোর্টার:
আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল (১০ মার্চ, বুধবার) ঢাকায় বলেন, ‘৭ কোটি বাঙালী আজ তাহাদের অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন এবং যে কোনো মূল্যে তাহারা এই অধিকার আদায়ের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গতকাল আওয়ামী লীগ প্রধান তাহার ধানমণ্ডিস্থ বাসভবনে লন্ডন টাইমস পত্রিকার প্রতিনিধির সহিত আলোচনাকালে উপরোক্ত উক্তি করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘এ পর্যন্ত বাঙালীরা বহু রক্ত দিয়াছে। এবার বাঙালীরা এই রক্ত দেওয়ার পালা শেষ করিতে চায়। বর্তমান গণবিক্ষোভের কারণ ব্যাখ্যা করিয়া আওয়ামী লীগ প্রধান জানান, ‘৭ কোটি বাঙালী অর্থনৈতিক মুক্তি চায়, এ ব্যাপারে তাহারা কোনো আপোষ করিতে রাজী নহে। (ইত্তেফাক: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার ১৯৭১)

অসহযোগ চলছেই
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক :
গতকাল (বুধবার) সারা বাংলাদেশে অসহযোগ আন্দোলনের তৃতীয় দিবস পরিপূর্ণ সাফল্যের সহিত অতিবাহিত হইয়াছে। তৃতীয় দিবসে পাকিস্তান বীমা সমিতির পূর্ব পাকিস্তান কমিটির পক্ষ হইতে ঘোষণা করা হয় যে, অন্য রকম কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে সকল বীমা কোম্পানীর অফিস আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকিবে। উল্লেখযোগ্য যে, প্রায় সকল বীমা কোম্পানীর সদর দপ্তর করাচীতে অবস্থিত। বীমা কোম্পানীগুলি যাহাতে পুঁজি পাচার করিতে না পারে সে জন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্টেট ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকে শুধু বাংলাদেশের মধ্যে লেনদেনের জন্য নির্দেশানুসারে সকাল ৯টা হইতে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য বৈকাল ৩টা পর্যন্ত কাজ চলিতেছে। স্টেট ব্যাংকের মাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশের বাহিরে যেন একটি পয়সাও পাচার না হয় সে নির্দেশ রহিয়াছে।

নির্দেশানুসারে সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্টসহ সকল কোর্ট-কাচারী, সেক্রেটারিয়েট, প্রায় সকল আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে অসহযোগ পালিত হইতেছে। কোর্ট-কাচারীর প্রাঙ্গণসমূহে মুহরী ও ভেন্ডারদের দফতরও বন্ধ। ঢাকায় জজকোর্ট ও নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ- যেখানে সব সময় হাজার হাজার লোকের সমাগমে গমগম করিত, এখন তাহা ধু ধু প্রান্তরে পরিণত। … (সংবাদ: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার, ১৯৭১)

শেখ মুজিবের চারটি শর্তের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তান নেতৃবৃন্দের সমর্থন দান
লাহোর ১০ই মার্চ- আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদানের জন্য যে চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করিয়াছেন আজ এখানের পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন নেতার এক সভায় তাহার প্রতি নীতিগতভাবে পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করা হয়।

সভায় যোগদানকারী নেতাদের মধ্যে প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতা, অবসরপ্রাপ্ত উচ্চ পদস্থ কর্মচারী, সুপ্রীম কোটের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিসহ বিশিষ্ট আইনবেত্তা, বিভিন্ন স্তরের খ্যাতনামা ওলেমা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকগণ রহিয়াছেন।

সাবেক পিডিএম প্রধান নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান উক্ত সভা আহ্বান করেন। সভা শেষে এক ইশতেহারে বলা হয় যে ‘পাকিস্তান এক যুগসন্ধিক্ষণে আসিয়া পৌঁছিয়াছে এবং ১৩ কোটি মুসলমানের এই মাতৃভূমিকে বিচ্ছিন্নতার হাত হইতে রক্ষা করিবার একমাত্র পথ হইতেছে জাতীয় পরিষদকে সক্রিয় করিয়া তোলা। (ইত্তেফাক: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার ১৯৭১)

প্রেসিডেন্টের প্রতি দৌলতানার আহ্বান
অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানে গিয়া শেখ মুজিবের সঙ্গে আলাপ করুন
লাহোর ১০ মার্চ (বুধবার)
কাউন্সিল মুসলিম লীগের সভাপতি মিয়া মমতাজ মোহাম্মদ খান দৌলতানা গতকাল এখানে বলেন যে প্রেসিডেন্টের অবিলম্বে পাকিস্তান গিয়া ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটাইবার উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের সহিত সাক্ষাৎ করা উচিত। তিনি বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টোর সহিত আলোচনা করিয়াছেন। ঠিক সেইভাবে তার শেখ মুজিবের সহিত সকল ব্যাপারে বিস্তারিত ও অন্তরঙ্গভাবে আলোচনা করা উচিত।…
(ইত্তেফাক: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার ১৯৭১)

ওয়ালী খান বলেন-
করাচী ১০ই মার্চ (বুধবার) :
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান আব্দুল ওয়ালী খান গতরাত্রে সাংবাদিকদের সহিত আলোচনাকালে বলেন, ‘আমরা যদি পরিষদে না যাই তবে বুঝিতে হইবে আমরা পরোক্ষভাবে ওই সকল শক্তিকে সমর্থন করিতেছি, যাহারা নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে চাহে না। তিনি গতরাতে পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে করাচী ত্যাগকালে আরো বলেন, ‘ক্ষমতা যাহাতে হস্তান্তর করা যায় সে জন্য প্রথম আমাদের শাসনতন্ত্র প্রণয়নেরই চেষ্টা করিতে হইবে।…
(ইত্তেফাক: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার ১৯৭১)

ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে আজগর খান: রাজনৈতিক মীমাংসা ছাড়াই চলতি সংকট নিরসন সম্ভব
ঢাকা (১০ মার্চ) এনা : এয়ার মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) আজগর খান আজ বলেন, ‘একমাত্র রাজনৈতিক মীমাংসা দ্বারাই দেশের চলতি সংকট নিরসন সম্ভব।’ আজ বিকালে করাচী যাত্রার প্রাক্কালে ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সির (এনা) সহিত এক সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল বলেন, ‘অনিচ্ছুক জনসাধারণের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ কার্যকরী হইতে পারে না।…
(সংবাদ: ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার, ১৯৭১)

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension