প্রধান খবরবাংলাদেশ

জুনের আগে খালেদার মুক্তির ‘সুযোগ নেই’

রূপসী বাংলা ডেস্ক:জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেলেও তাকে কারাগার থেকে মুক্ত হতে আরও অপেক্ষায় থাকতে হবে। কারণ, তিনি আরও একটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন।

কারাগার থেকে মুক্তি পেতে এই মামলাতেও জামিন পেতে হবে তাকে। আগামী জুনে এই মামলায় শুনানি রয়েছে। ফলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন মিললেও কুমিল্লার সেই মামলায় শুনানির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে বিএনপি নেত্রীকে।

আবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির দিন নড়াইলেও একটি মামলায় জামিন শুনানি হবে খালেদা জিয়ার। সেই আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে বিএনপিকে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এই মামলায় আজ খালেদা জিয়াকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ আছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়ার পর থেকে তিন মাস ধরে তিনি ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী।

এই মামলায় গত ১২ মার্চ এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার মাসের জামিন পান খালেদা জিয়া। তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করায় তার মুক্তি আটকে যায়। আর এই আবেদনের ওপরই শুনানি হতে যাচ্ছে আজ।

গত ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ৮ মে ঠিক করে। মামলাটি আজ আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় নয় নম্বরে আছে।

এই শুনানি নিয়ে দেড় মাস ধরে প্রতীক্ষায় বিএনপি। তাদের আশা, আপিল বিভাগ নিরাশ করবে না তাদের। আর শুনানির আগের দিন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে এক জমায়েতে এই প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরেন।

তবে ২০১৫ সালে বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনের সময় কুমিল্লায় বাসে পেট্রল বোমা হামলা করে আট জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলাতেও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো আছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূইয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ম্যাডামের জামিন শুনানির জন্য আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ম্যাডাম দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি অসুস্থ। সবকিছু মিলিয়ে আদালত তাকে জামিন দিবেন বলে আশা করছি।’

এ মামলায় জামিন হলে তিনি কারামুক্ত হবেন কি না জানতে চাইলে জাকির বলেন, ‘তাকে আরও দুইটি মামলায় জামিন নিতে হবে। তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন হলে ওই সব মামলায় জামিন পেতে সমস্যা হবে না আশা করি।’

কুমিল্লার মামলায় জামিন শুননি ৭ জুন

২০১৫ সালে সরকার পতনের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন চলাকালে ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার এলাকায় ইউনিক পরিবহনের বাসে পেট্রল বোমায় আট জন নিহত এবং ২০ যাত্রী আহত হন।

এ ঘটনায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করে পুলিশ। এতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে করা হয় হুকুমের আসামি।

একই ঘটনায় করা বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর এবং হত্যা মামলায় গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার ‍বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার আদালত।

দুটি মামলাতেই খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

এর মধ্যে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গত ৮ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখায় কুমিল্লার আদালত।

১০ এপ্রিল কুমিল্লার ৫ নং আমলি আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লাহ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করেন।

পরে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা ১৬ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে সেটিও নাকচ হয়। আর ২৩ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন আদেশ না দিয়ে ৭ জুন শুনানির দিক ঠিক হয়।

নড়াইলে কীভাবে যাবেন খালেদা?

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বির্তকিত মন্তব্যের মামলায় আজ নড়াইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাহিদুল আজাদের আদালতে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ আছে খালেদা জিয়ার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার লাগোয়া বিশেষ জজ আদালতেই খালেদা জিয়াকে হাজির করা হেচ্ছ না। সেখানে তাকে আজ নড়াইলে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এই মামলায় জামিনের আবেদন নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল শুনানি করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সেদিন ৮ মে খালেদা জিয়াকে সশরীরে উপস্থিতি হতে নির্দেশ দেন বিচারক।

এই মামলায় বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট।

২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।

এই বক্তব্যের জেরে নড়াইলের নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল সদর আমলি আদালতে মামলা করেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension