
বিএনপির সমাবেশ শুরু, খালেদা জিয়ার সম্মানে ফাঁকা চেয়ার
বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের মঞ্চেও দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্মানে ফাঁকা চেয়ার রাখা হয়েছে। চেয়ার ফাঁকা রেখেই শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সমাবেশ শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্রীয় নেতারাও সমাবেশ মঞ্চে আসতে শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত সমাবেশের মঞ্চে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনুকুল হাসান শ্রাবণসহ আরও অনেকে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
গত তিন দিনে নানা ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার পর রাতের মধ্যে ভরে যায় সমাবেশস্থল। এখনো নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে আসছেন। মাঠে জায়গা না হওয়ায় অনেক নেতা-কর্মীই রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।
মধ্যরাত থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত সমাবেশস্থল। এসব স্লোগানে দলটির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে। এ সময় স্লোগানের মাধ্যমে নিজ নিজ কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে দেখা যায় নেতাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সমাবেশ ঘিরে গোলাপবাগ মাঠ ও এর আশেপাশে বিএনপির লাখো নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল রাতেই গোলাপবাগ মাঠে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে এখনো সেখানে নেতাকর্মীরা আসছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে এসেছেন হাবিব। তিনি বলেন, পথে পথে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ছিল। আমিসহ তিনজন মুরগির গাড়িতে করে গুলিস্তান কাপ্তানবাজারে আসি। এরপর পায়ে হেঁটে সমাবেশে এসেছি।
তিনি বলেন, আমরা কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য সমাবেশে আসিনি। আমরা আমাদের বন্দী নেতাদের মুক্তির দাবিতে এসেছি, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি নিয়ে এসেছি।
ফেনী থেকে এসেছেন সইজদ্দিন মিয়া। তিনি বলেন, আমি পাঁচ দিন আগে ঢাকা এসেছি। এক আত্মীয়ের বাসায় এই কয়দিন ছিলাম। সমাবেশের অনুমতির কথা শুনেই শুক্রবার বিকেলে এখানে আসি। রাতেও ছিলাম, সমাবেশ শেষ করে ফিরবো। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিক-নির্দেশনা নিয়ে এলাকায় কাজ করতে চাই।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি গত আগস্ট থেকেই কর্মসূচি পালন করে আসছে। অক্টোবর থেকে শুরু বিভাগীয় গণসমাবেশ করতে গিয়ে দলটি বাধা ও হামলার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া সমাবেশগুলোর আগে বিভিন্ন বিভাগে পরিবহন ধর্মঘটও হয়েছে।



