বাংলাদেশ

আগামী বছর থেকেই পেনশন পাবেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা

রূপসী বাংলা ডেস্ক:সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বেসরকারি খাতে সবাই যেন পেনশন পান-এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘সার্বজনীন পেনশন পদ্ধতি’র খসড়া কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়া কাঠামোতে কীভাবে এ ব্যবস্থা পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে বিশদ রূপরেখা তুলে ধরা হবে। আগামী ২০১৮-১৯ বাজেটে এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ পদ্ধতি কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বেসরকারি খাতে যারা চাকরি করেন, মাসিক পেনশন সুবিধা পাবেন তারাও।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সার্বজনীন পেনশন পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজ আগামী অর্থবছর থেকে শুরু হবে। দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হতে কমপক্ষে তিন-চার বছর সময় লাগবে। তারপরই এর সুফল মিলবে।

সূত্র আরো জানায়, আগে সিদ্ধান্ত ছিল সরকারি চাকরিজীবীরা সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন। এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে, শুধু বেসরকারি চাকরিজীবীদেরেএর আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়ায় বেসরকারি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল চাকরিজীবীকে এ আওতায় আনা হচ্ছে। এ ছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর যারা নিয়মিত আয় করেন, তারা যেন সুবিধা পেতে পারেন সে ব্যবস্থা থাকছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, প্রস্তাবিত পেনশন তহবিল হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। অর্থাৎ চাকরিজীবী ও নিয়োগ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ তহবিলে অর্থ জোগান দেবে। এর পরিমাণ হতে পারে চাকরিজীবীর মূল বেতনের শতকরা ১০ ভাগ। অন্যদিকে, সমপরিমাণ টাকা দেবে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ। সরকারি এবং বেসরকারি খাতে একই নিয়মে তহবিল গঠন করা হবে। প্রস্তাবিত পেনশন ব্যবস্থার আওতায় পেনশনভোগীর বয়স সর্বোচ্চ ৬৫ নির্ধারণ করা হতে পারে।

তহবিল পরিচালনা করবে ‘ন্যাশনাল পেনশন অথরিটি’। সরকার তা গঠন করবে। তহবিলে যে টাকা জমা হবে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে এ টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এ জন্য সরকার প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবে। তারা লাভজনক খাতে তহবিলের ওই অর্থ বিনিয়োগ করবে। ওই বিনিয়োগ থেকে যে মুনাফা আসবে, তার অংশ মাসে মাসে পাবেন সুবিধাভোগীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কোথায় বিনিয়োগ করা হবে, কী ভাবে করা হবে, সে বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা হবে। ওই নীতিমালার আলোকে তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরের পর পেনশন সুবিধা ভোগ করছেন। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ক্ষেত্রবিশেষ প্রভিডেন্ট ফান্ড থাকলেও অবসরের সময়ে মাসে মাসে পেনশন পান না। এ ক্ষেত্রে সমতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদেরও পেনশনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়ার মতো সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে আসন্ন বাজেটে পদক্ষেপ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

সূত্র জানায়, সার্বজনীন পেনশন পদ্ধতির আওতায়, বেসরকারি পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে বড় বড় করপোরেট হাউস, শেয়ারবাজারে লিস্টেড কোম্পানিতে কর্মরত চাকুরেদের আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতের প্রতিনিধিদের আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, বর্তমানে সরকারি খাতে চাকরিজীবী প্রায় ১৫ লাখ, যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫ ভাগ। তারা সবাই পেনশন সুবিধা পান।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ৯৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র আট ভাগ ফরমাল বা আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের কোনো পেনশন সুবিধা নেই।

সূত্র: দৈনিক সমকাল

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension