
হোসনেআরা চৌধুরী। নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার কুইন্সের উডসাইডে অবস্থিত গুলশান টেরেস পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ক্লাব সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মোট ২২৪ জন ভোটারের মধ্যে ২১২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে ভোটদানের হার দাঁড়ায় ৯৪.৬৪ শতাংশ, যা সদস্যদের ব্যাপক আগ্রহ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দৃঢ় আস্থার প্রতিফলন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলার পর ভোর ৫টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের ফলাফলে প্রেসিডেন্ট পদে জেএফএম রাসেল ১২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ হাসান জিলানী পান ৮৯ ভোট।
সেক্রেটারি পদে মাসুদ রানা তপন ১৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম এন হায়দার মুকুট পান ৭০ ভোট।
ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ রুহল আমিন (১১৫ ভোট) এবং মোহাম্মদ জসিম (১০১ ভোট)।
জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ১১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ এবি সিদ্দিক। অর্গানাইজিং সেক্রেটারি পদে ১২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তমাল হোসেন।
ডিরেক্টর পদে ১৯ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে ১৫ জন নির্বাচিত হন। নির্বাচিত ডিরেক্টররা হলেন—লায়ন মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, লায়ন নার্গিস রহমান, লায়ন শাহ জে চৌধুরী, লায়ন শাহনাজ হোসেন, লায়ন কৃষ্ণা খান তিথি, লায়ন আবুল কাশেম চৌধুরী, লায়ন বেলাল আহমেদ, লায়ন সুমন মাহমুদ, লায়ন মোহাম্মদ এ. জামান, লায়ন ডেইজি ইয়াসমিন, লায়ন আরিফ চৌধুরী, লায়ন এটিএম হেলালুর রহমান, লায়ন আসাদুর রহমান, লায়ন মোহাম্মদ হোসেন আজাদ এবং লায়ন শাহ শহিদুল হক।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন চিফ ইলেকশন কমিশনার লায়ন আমেনা নেওয়াজ। তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন লায়ন মুহাম্মদ সায়েদ, লায়ন রকি আলিয়ান (MJF), লায়ন মোহাম্মদ আলী এবং লায়ন নুরুল আজিম। তাদের সম্মিলিত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
এ নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল লায়ন শাহ নেওয়াজ, PMJF—লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের ফার্স্ট ভাইস ডিস্ট্রিক্ট গভর্নরের সক্রিয় উপস্থিতি। তিনি নির্বাচনের শুরু থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রার্থী ও ভোটারদের সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে সময় কাটান এবং সবাইকে উৎসাহ প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “এই ক্লাব আমাদের সবার। এখানে হার-জিত বড় বিষয় নয়—আমরা সবাই মিলে একসাথে এগিয়ে গিয়ে এটিকে আরও সুন্দর ও সফল একটি ক্লাবে পরিণত করব।” তিনি সকল প্রার্থী ও সদস্যদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা একে অপরকে অভিনন্দন জানান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কোলাকুলি করে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সবাই ক্লাব ও বৃহত্তর কমিউনিটির উন্নয়নে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, গণতান্ত্রিক চর্চা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ছবি: ফটো সাংবাদিক নেহার সিদ্দিকী












































