
কর্নাটক: রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাতেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন কংগ্রেসের
রূপসী বাংলা ডেস্ক:কর্নাটকে কে সরকার গঠন করবে, সেই নিয়ে নাটক অব্যাহত। আগামীকাল কর্নাটকে শপথ নিতে চলেছে বিজেপি সরকার। সকাল ৯টায় শপথ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা। কিন্ত, তার আগে, বুধবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কংগ্রেস।
সূত্রের খবর, বিজেপিকে রুখতে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি করে এদিন রাতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে মামলা দায়ের করে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এই মামলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানিয়েছে দল। এদিন কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছি এবং রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ করেছি, রাতেই এর শুনানির ব্যবস্থা করা হোক। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে কংগ্রেস দাবি করে, বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজ্যপালের নেওয়া সিদ্ধান্তে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ এবং ‘সংবিধান ভূলুণ্ঠিত’ হয়েছে।
এর আগে, এদিন বিকেলে এইচডি কুমারস্বামীর নেতৃত্বে জেডিএস ও কংগ্রেস নেতারাও রাজ্যপাল বাজুভাই ভালার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা ১১৭ জন বিধায়কের তালিকা তুলে দিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানান। তখন রাজ্যপাল জানান, তিনি দ্রুত উপযুক্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।
কিছুক্ষণ পর পাল্টা বিজেপি-ও সরকার গড়ার দাবি জানায়। আজ রাজ্যপাল বাজুভাই ভালার সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হওয়া ইয়েদুরাপ্পা। সঙ্গে ১০৪ জন বিধায়কের তালিকা। তিনি বলেন, বিজেপি বৃহত্তম দল হওয়ায় তাঁদেরই সরকার গড়তে দিতে হবে। এরপরই, বিজেপিকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এমনকী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তাদের ১৫-দিনের সময়ও দেন তিনি।
এরপরই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেয় কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিজেপি সরকারের ‘তাবেদার’ হিসেবে কাজ করছেন রাজ্যপাল। দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, একটা অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অনৈতিক সরকার আগামীকাল শপথ নিতে চলেছে। চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজভবনের সম্মানহানি করেছেন রাজ্যপাল।
শুধু রাজ্যপাল নয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেনদ্র মোদী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন সুরজেওয়ালা। বলেন, মোদী ও অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে, গোয়া মণিপুরে বিজেপি বৃহত্তম দল না হওয়া সত্ত্বেও কী করে সেখানে সরকার গঠন করল।
যদিও, জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপি। যে দল অতীতে বারংবার সংবিধানের তুলোধনা করেছে, সবচেয়ে বেশিবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে, তারাই এখন সংবিধান নিয়ে ভাষণ দিচ্ছে।



