
গাজায় ‘কার্যকর যুদ্ধবিরতি’র নিশ্চয়তা চায় হামাস
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেখান থেকেই হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পালে হাওয়া পায়। তবে গাজার বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি।
ফিলিস্তিনের গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিশ্চয়তা চায় হামাস। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় এদিন অন্তত আরো ৫৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে। সবার সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেখান থেকেই হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পালে হাওয়া পায়। তবে গাজার বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে যুদ্ধের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি বিমান হামলা। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য ফিলিস্তিনি।
এদিকে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, গাজায় হামাসের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রাথমিক শর্তে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। এই সাময়িক বিরতির সময় যুদ্ধ পুরোপুরি অবসান নিশ্চিতে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষরা।
আর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে প্রায় ২১ মাস ধরে এ যুদ্ধ চলছে। তবে এখন দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, তাদের দিক থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ১০ জন জীবিত জিম্মি এবং ১৮ জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিষয়টি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত আছে।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতে দেয়া হবে। একইসঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারও শুরু হবে। স্থায়ী যুদ্ধাবসানের বিষয়েও এই সময়ের মধ্যে আলোচনা শুরুর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে প্রস্তাবে।
ইসরায়েলের ধারণা, হামাসের হাতে এখনও অর্ধশত জিম্মি আছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত আছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালায় হামাস। ওইদিন অন্তত ১২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয় বলে দাবি করে আসছে নেতানিয়াহু সরকার। জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।



