বাংলাদেশ

দুই দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ছয় ‘মাদক বিক্রেতা’

রূপসী বাংলা ডেস্ক:র‌্যাবের মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে গত দুই দিনে তিন জেলায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছে। নিহত সবাই মাদক বিক্রিতে জড়িত বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

র‌্যাব অফিসের সামনে মাদক ফেলে না গেলে পরিণতি ভালো হবে না বলে বাহিনীটির প্রধান বেনজীর আহমদের হুঁশিয়ারির পর মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতোই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানে নির্দেশ দিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ৩ মে ঢাকায় র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও প্রধানমন্ত্রী আবারও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে বাহিনীটিকে নির্দেশ দেন।

পর দিন থেকেই র‌্যাব নামে এই অভিযানে। আর ১৪ মে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মাদক বিক্রেতা ও মাদক ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেন বেজনীর আহমেদ।

র‌্যাব প্রধান সেদিন বলেন, ‘যাদের কাছে অবিক্রিত ড্রাগ (মাদক) রয়েছে তারা আমাদের ক্যাম্পের আশপাশে সেসব ফেলে রেখে যাবেন। প্রত্যাশা করছি যারা ড্রাগ গ্রহণ করেন তারা ছেড়ে দেবেন। যারা খুচরা বিক্রি করেন তারা বাদ দেবেন। যারা ডিলার (পরিবেশক) হিসেবে সরবরাহ করেন তারা সব বন্ধ করবেন। সবাই সাবধান হবেন।’

এর পর ১৭ মে দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবদুল আলীম নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। র‍্যাবের দাবি, নিহত ব্যক্তি একজন শীর্ষ মাদক বিক্রেতা।

একই রাতে চট্টগ্রামের বরিশাল কলোনিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন দুই জন। এরাও মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শুক্রবার দিবাগত রাতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম, হাবিবুর রহমান এবং মিলন কাসারী নামে আরও তিন জন নিহত হয় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’। এই দিন জনও মাদক বিক্রিতে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

র‌্যাবের অভিযান শুরুর পর এর আগেও গত ৭ মে রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নারায়ণগঞ্জে ও কুষ্টিয়ায় একজন করে এবং ৯ মে রাজশাহীতে এক নিহত হয়েছেন। এরাও সবাই মাদক ‘ব্যবসায়’ জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

যোগাযোগ করা হলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে যে হিসাব দেয়া হয়েছে তাতে জানানো হয়, গত ৪ মে থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭৯টি অভিযানে ৪৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সময় আটক হয়েছে তিন হাজার ৩৪৭ কেজি হেরোইন, চার লাখ ৩২ হাজার ৮০৯ টি ইয়াবা বড়ি, পাঁচ হাজার ৪১৩ টি ফেনসিডিল, এক লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ কেজি গাঁজা, এক হাজার ৫৪ বোতল দেশি মদ এবং এক লাখ সাত হাজার ৮৫৪ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে সেটা অব্যাহৃত থাকবে। আমরা শুধু মাত্র মাদক সরবরাহকারীকে চিহিৃত করছি না। মাদক ব্যবহারকারী, চোরাকারবার আর উৎপন্নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান কখনও আইন দিয়ে বা প্রশাসন দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব না। তাই র‌্যাব সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। কারণ সব শ্রেণির পেশার মানুষ আমাদের সাথে থাকলে এই অভিযান সফল হবে।  কারণ সবার সক্ষমতা দিয়ে এগিয়ে আসলে  মাদকের এই অপব্যবহার অনেক অংশে রোধ করা সম্ভব হবে।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension