
দুই শতাধিক খাদ্যপণ্যের শুল্ক প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
সাধারণ জনগণের সমালোচনার মুখে দুই শতাধিক খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সংক্রান্ত একটি আদেশে স্বাক্ষরে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইতোমধ্যে সেই আদেশ দেশজুড়ে কার্যকরও হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রায় আড়াই মাসের মাথায় গত ২ এপ্রিল বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ওপর বর্ধিত রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। অতিরিক্ত এই শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মার্কিন বাজারে বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপস্থিতি কমে যায়। খাদ্য ও কৃষিজসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এরা ফলে সাধারণ জনগণের সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পরতে হয় ট্রাম্পকে।
ক্রমবর্ধমান খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগের মাঝেই শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল হোয়াইট হাউজ। যেসব খাদ্যপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে কফি, গরুর মাংস, কলা ও কমলার রসের মতো মার্কিনীদের দৈনন্দিন ভোক্তা পণ্যও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল। বর্ধিত দাম কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন যে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এই আশঙ্কা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মূল্যস্ফীতি নেই।
শুল্ক প্রত্যাহার করে যেসব পণ্যের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেসবের মধ্যে এমন সব পণ্য রয়েছে, যা মার্কিন ভোক্তারা প্রতিদিন কেনেন। এসব পণ্যের বেশির ভাগের দাম গত এক বছরে ব্যাপক হারে বেড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন কাঠামোগত বাণিজ্যচুক্তিরও ঘোষণা দেয়। এটি চূড়ান্ত হলে আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদর থেকে আমদানি হওয়া কিছু খাদ্যপণ্য এবং অন্যান্য সামগ্রীর ওপর শুল্ক প্রত্যাহার হবে। বছর শেষের আগেই আরও চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও পারস্পরিক সুবিধাজনক অবস্থানে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



