প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে অংশ নিতে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে নির্বাসনে আছেন।

৫৯ বছর বয়সি তারেক রহমান হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কার্যত দলটির প্রধান নেতা।

দলটির বিশ্বাস, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় নির্বাচনে তারা জিততে পারে। সংবাদ ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের। ২০২৬ সালের এ নির্বাচনকে দেশটির জন্য অন্যতম ফলপ্রসূ নির্বাচন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, সময় এসেছে, ইনশাআল্লাহ, আমি শিগগিরই ফিরে আসব। হয়ত কিছু ব্যক্তিগত কারণে এখনও ফিরতে পারিনি।কিন্তু আমার মনে হয়, সময় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, এটি এমন একটি নির্বাচন, যার জন্য মানুষ অপেক্ষা করছিল, আমি এই সময় নিজেকে দূরে রাখতে পারব না।

গত বছর ব্যাপক বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে এ সরকার গঠন করা হয়। সেই আন্দোলন ও তৎকালীন সরকারের দমন অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন প্রাণ হারায়।

শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পলে ফলে দেশে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়। এ সময় এ শূন্যতা পূরণে দায়িত্বে আসেন শেখ হাসিনার সমালোচক এবং নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। পরে আওয়ামী লীগকে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।এ ছাড়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হয়।

তারেক রহমান, যিনি জনপ্রিয়ভাবে তারেক জিয়া নামে পরিচিত, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে তিনি নির্বাসিত ছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে একাধিক মামলায় তাকে দণ্ডিত করা হয়। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার একটি জনসভায় গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমান নিজেকে দোষী হিসেবে স্বীকার করেননি।

গত বছর শেখ হাসিনার উৎখাতের পর তার উপর থাকা সব অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পান। তারেক রহমানের মা, ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং এখনও নিশ্চিত নয় তিনি নির্বাচনি প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন কি না।

তারেক রহমান বলেন, তিনি সুস্থ অবস্থায় জেলে গিয়েছিলেন এবং অসুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছেন, তিনি যথাযথ চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। কিন্তু… যদি তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, তিনি অবশ্যই নির্বাচনে কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension