
নিউ ইয়র্ক মেয়র নির্বাচন: জোহরান মামদানির কর ও ব্যয় প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক
নিউ ইয়র্ক, অক্টোবর ৬, ২০২৫: আসন্ন নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী জোহরান মামদানি। তাঁর প্রস্তাবিত কর ও ব্যয় পরিকল্পনাকে ঘিরে শহরজুড়ে চলছে তুমুল বিতর্ক ও বিশ্লেষণ।
মামদানি ঘোষণা দিয়েছেন, শহরে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলার নতুন ব্যয় চালু করবেন—যার অর্থ আসবে মূলত ধনী নাগরিক ও কর্পোরেটদের ওপর কর বৃদ্ধির মাধ্যমে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত করের মাধ্যমে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ সম্ভব, আর বাকি অর্থ আসবে প্রশাসনিক দক্ষতা ও পরিচালন উন্নয়ন থেকে।
প্রধান প্রস্তাবসমূহ
জোহরান মামদানি যে কয়েকটি প্রস্তাব সামনে এনেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—
• সবার জন্য শিশু যত্ন: ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ যত্নব্যবস্থা চালু।
• বিনামূল্যে গণপরিবহন: শহরের বাসযাত্রা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ।
• কমিউনিটি সেফটি বিভাগ: মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী ও “ভায়োলেন্স ইন্টারাপ্টার” নিয়ে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো গঠন, যার বাজেট প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।
তবে এই পরিকল্পনাগুলোর বেশ কিছু বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও শহর প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়া অনেক উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব নয়।
কর বৃদ্ধির প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানি প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধি শহরের ধনী শ্রেণির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটির মোট আয়কর আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ আসে শীর্ষ ১ শতাংশ নাগরিকের কাছ থেকে। তাই অতিরিক্ত করের ফলে ধনী ও কর্পোরেটদের শহর ত্যাগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই পদক্ষেপে শহরের রাজস্ব কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে প্রশাসনের ব্যয়ভার সামলানো কঠিন হবে।
রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
মেয়র নির্বাচনে মামদানি এখন এক শক্তিশালী প্রগতিশীল কণ্ঠস্বর হলেও, তাঁর অতীতের কিছু অবস্থান—বিশেষ করে পুলিশের বাজেট কমানোর দাবির (#DefundTheNYPD)—কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পুলিশবিরোধী অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে “সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো”র কথা বলছেন।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
জোহরান মামদানির প্রস্তাবগুলো সামাজিক ন্যায় ও অর্থনৈতিক সমতার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবায়নে রয়েছে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, তাঁর পরিকল্পনা নিউ ইয়র্ককে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারে—তবে এর অর্থনৈতিক ঝুঁকি সামলানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: City Journal



