
হোসনেআরা চৌধুরী। নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবনের উপর দিয়ে যখন এক টুকরো নীরবতা নেমে আসে, তখনই যেন সেখানে জেগে ওঠে প্রবাসী হৃদয়ের গভীরতম ডাক—লাল-সবুজের মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্মৃতি। সেই অনুভবেই আবারও মুখরিত হলো শহরটি, হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ “বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬”—যা রূপ নিল ভালোবাসা, ঐক্য ও গর্বের এক জীবন্ত ক্যানভাসে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত রাস্তাগুলো সেই দিনে যেন আর রাস্তা ছিল না—ছিল এক বিশাল উৎসবমুখর মঞ্চ। বাতাসে ভেসে বেড়ানো লাল-সবুজ পতাকার ঢেউ, ঐতিহ্যবাহী পোশাকের উজ্জ্বলতা, আর দেশাত্মবোধক সঙ্গীতের আবেগময় সুর মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অপার্থিব পরিবেশ—যেখানে প্রতিটি হৃদস্পন্দন যেন উচ্চারণ করছিল “বাংলাদেশ”।
জ্যাকসন হাইটসের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি, তাদের সুশৃঙ্খল ও বর্ণিল গাড়িবহর পুরো প্যারেডকে এনে দেয় এক অনন্য গতি ও প্রাণশক্তি। প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে—শিকড় কখনো মুছে যায় না, শুধু দূরত্বের ভেতরেও আরও গভীরভাবে প্রসারিত হয়।
এই মহোৎসবের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ডে প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল এম আজিজ, চেয়ারম্যান এটর্নি মইন চৌধুরী, কনভেনর গিয়াস আহমেদ, মেম্বার সেক্রেটারি ফাহাদ সোলায়মানসহ আয়োজক কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ। তাঁদের দক্ষ পরিকল্পনা, নিষ্ঠা ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই এই বিশাল আয়োজন রূপ নেয় এক সফল ও শৃঙ্খলিত উৎসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ শাহনেওয়াজ, যার উপস্থিতি পুরো আয়োজনে যোগ করে আলাদা মাত্রার মর্যাদা ও সৌন্দর্য।
প্যারেডে অংশ নেয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। রঙিন ফ্লোট, নৃত্য, সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনায় দর্শকদের চোখে ধরা দেয় এক জীবন্ত বাংলাদেশ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যা স্পষ্ট করে দেয়, প্রবাসেও সংস্কৃতি শুধু স্মৃতি নয়, এটি এক চলমান উত্তরাধিকার।
আয়োজকদের ভাষায়, এই প্যারেড শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য ও গর্বের এক শক্তিশালী প্রতীক।
অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, এটি শুধু একটি প্যারেড নয়—এটি যেন শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অনুভব। দূরত্ব যতই হোক, হৃদয়ের ভেতর বাংলাদেশ আজও অক্ষত, অটুট ও চিরজাগ্রত।
বাংলাদেশ ডে প্যারেড ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল—ভৌগোলিক দূরত্ব কখনোই হৃদয়ের বন্ধনকে আলগা করতে পারে না। নিউইয়র্কের নীরব আকাশে তাই আজও ভেসে থাকে লাল-সবুজের সেই স্বপ্নিল উড়ান—যা প্রবাসে বাংলাদেশকে করে তোলে আরও দীপ্ত, আরও জীবন্ত, আরও গর্বিত।
ছবি: ফোটোসাংবাদিক নেহার সিদ্দিকী


































