
নিষেধাজ্ঞা আরোপে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার: বেনজীর
রূপসী বাংলা প্রতিবেদন: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমদ নি উইয়র্কে এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রাপ্তিতে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল, তা ছিল ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, একটি গ্রুপের এই ষড়যন্ত্র করতে তিন বছর লেগেছিল এবং ১০০ মিলিয়ন ডলার খরচও করেছে। ডাহা মিথ্যাচার তারা দাখিল করেছিল চারটি লবিষ্ট ফার্মের মাধ্যমে। যে কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাকে ভিসা প্রাপ্তিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তা কিন্তু প্রত্যাহার হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই মিথ্যাচার জানতে পেরেছে। এই ঘটনার জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করি না। যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই দায়ী। কারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল আমরা তা জানতে পেরেছি।
আইজিপি বেনজীর আহমদ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত র্যাবে আমি ছিলাম না। ঐ সময়ের হত্যা বা গুমের ঘটনাগুলোর জন্য আমাকে দায়ী করে এখানে লবিং করা হয়েছে। লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে যে তালিকা জমা দেয়া হয়েছিল, তা ছিল মিথ্যচারে ভরা। মিথ্যাচার কখনও টেকে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে আমাদের সরকার এবং মার্কিন জনগণের সঙ্গে আমাদেও জনগণের সম্পর্ক রয়েছে। শেয়ারিং আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে লড়াই করছে, আমরাও লড়াই করছি। আমাদের অনেক ক্ষেত্রে পাশাপাশি কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ২৩জন সাংবাদিক দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন, তা আমরা জানি। আমার ভিসা না পাওয়া নিয়ে কোটি মানুষের মধ্যে কৌতুহল জন্ম নিয়েছিল। আমি বিচলিত হই নি। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে সঠিক তথ্য চলে এসেছে। তাই মিথ্যাচারীরা জয়লাভ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র নাগরিক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছিল প্রবাসী গোপালগঞ্জবাসীরা। এই সংবর্ধনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা সভা নিয়ে দেশ ও প্রবাসে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। আইজিপি বেনজীর আহমেদ জাতিসংঘের অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহলও ছড়িয়ে পড়েছিল। নিউ ইয়র্কে সংবর্ধনা সভায় ভাষণ দিয়ে তিনি জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান।



