
পাকিস্তানে চেকপোস্টে গুলি ও গ্রেনেড হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় রোববার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্টে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায় ও হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) কর্মীরা পাল্টা জবাব দিলে হামলাকারী পালিয়ে যায়। তবে এই সন্ত্রাসী হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর জিও নিউজ।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর এই হামলা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে চলমান নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর সঙ্গে যোগ হয়েছে। জুলাই মাসেই প্রদেশটিতে অসংখ্য জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে ৷
এর আগে ২১ জুলাই, খাইবার পাখতুনখোয়ায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমপক্ষে চারটি সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া যায়। যার মধ্যে একটি হামলা রাজধানী শহর পেশোয়ারে হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এটি ব্যর্থ করতে সফল হয়।
এর আগে ২০ জুলাই একজন পুলিশ সদস্য শহীদ হন। এই হামলার পর হামলাকারী যখন বড় তহসিল চত্বরে প্রবেশ করতে নেয় তখন পুলিশ তাকে এবং তার সহযোগীকে বাধা দেয়। এসময় সে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে আরও ১০ জন আহত হয়।
গত বছরের শেষের দিকে যখন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) ইসলামাবাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ করে। এরপর থেকেই এই প্রদেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রমবর্ধমান জঙ্গিবাদের আলোকে, পাকিস্তানের সরকার আফগানিস্তানকে নিষিদ্ধ টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা সম্প্রতি বলেছেন, নিষিদ্ধ টিটিপি এবং আফগানিস্তানের অন্যান্য গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে।
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর পাকিস্তান সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী শাসকদের প্রতি আন্তঃসীমান্ত হামলার জন্য দায়ী টিটিপিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাধীন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (পিআইসিএসএস) দ্বারা প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে দেশটিতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ৭৯% বেড়েছে।



