
মামদানি’র ‘ট্রাম্প বিরোধী’ পাঁচ বরো সফর শুরু — কুওমোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যোগসূত্রের অভিযোগ উত্থাপন

রিপোর্ট: হোসনেআরা চৌধুরী
নিউইয়র্ক | তারিখ: আগস্ট ১২,২০২৫: নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো জুড়ে “ট্রাম্প বিরোধী” এক রাজনৈতিক সফর শুরু করেছেন, যা ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা এবং ট্রাম্পপন্থী রাজনীতির প্রভাবকে নিউইয়র্কের জনগণের মাঝে কমিয়ে আনা।
সফরের প্রথম দিনেই মামদানি বলেছেন, “আমাদের গণতন্ত্র আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে বিভাজন, ঘৃণা ও বৈষম্য ছড়ানো দুঃসাহসী রাজনৈতিক মনোভাবের দ্বারা হুমকির মুখে। ট্রাম্প এই বিষাক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছেন।”
মামদানি বলেন, “ট্রাম্পের নীতিগুলো শুধু আমেরিকার নয়, নিউইয়র্কেরও নিরাপত্তা ও ঐক্যকে বিপন্ন করছে। এজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”
কুওমো এবং ট্রাম্পের সম্পর্কের অভিযোগ
এই সফরে মামদানি আবারও বিতর্কিতভাবে প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ও নৈতিক দিক থেকে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প এবং কুওমো উভয়েই ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার অভাবের নীরব সহযোগী। তারা একই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ, যেখানে ক্ষমতা কেবল শ্রেষ্ঠত্বের ও ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ব্যবহৃত হয়।”
কুওমো এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “আমার কোনও ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ যোগাযোগ ট্রাম্পের সঙ্গে ছিল না। এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
নিউইয়র্ক রাজ্য ও সিটির রাজনীতিতে ট্রাম্প বিরোধিতা নতুন নয়, তবে মামদানির মতো যুব রাজনীতিবিদদের এই ধরনের মিশন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকলেও কিছু রিপাবলিকান নেতা ও তাদের নীতির শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকতা এখানকার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই সফর মূলত নিউইয়র্কের প্রগতিশীল ভোটারদের মনোবল জোরদার করা এবং রিপাবলিকান প্রভাবকে ঘাঁটিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, তিনি নিজেকে ট্রাম্প-সমর্থিত নীতির বিরুদ্ধে নিরলস যোদ্ধা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সফরে অংশ নেওয়া সমর্থকরা বলছেন, মামদানির তৎপরতা নিউইয়র্কের বহুজাতিক, বহুভাষিক ও প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গুরত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। তার বক্তব্যে ভর করে তারা একতাবদ্ধ হচ্ছেন এবং ট্যুরের মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।
মামদানি সফরের পরবর্তী ধাপে নিউইয়র্ক জুড়ে আরও বড় সমাবেশ, আলোচনাসভা এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, এই কর্মসূচি দ্বারা নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন প্রগতিশীল ধারার সৃষ্টি হবে।
সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
তবে রিপাবলিকান নেতারা মামদানির এই সফরকে কটাক্ষ করে ‘রাজনৈতিক নাটক’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় বিভাজন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, এমন ধরনের মিশন কেবল রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ায় এবং সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে।
উপসংহার
জোহরান মামদানির এই ট্রাম্প বিরোধী পাঁচ বরো সফর শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; এটি নিউইয়র্ক রাজনীতির প্রগতিশীল শক্তিকে সক্রিয় করার একটি কৌশল। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনের সামনে, এই ধরনের সক্রিয় উদ্যোগ রাজনীতির তাপমাত্রা বাড়াবে এবং ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



